দুই বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও রক্তের টান আজও অটুট। ধর্মীয় ও সামাজিক বিশ্বাসের দিক থেকে বহু মানুষ এখনও একে অপরের সুখ-দুঃখে মেলে ধরে সহযোগিতার হাত। বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায়—যাঁরা দুই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছেন—তাঁদের সুখ-দুঃখ যেন অভিন্ন। তাই যখন সীমান্তের ওপারে কেউ সমস্যায় পড়ে, তখন এপারের মানুষের মনও ভারী হয়ে ওঠে। ঠিক সেই আবেগ থেকেই এবার পথে নামছে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের ঘটনা কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিচার্য। সম্প্রতি বাংলাদেশের যশোর জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনায় মর্মাহত বহু মানুষ। ঘটনাটি শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং দুই বাংলার মধ্যে গড়ে ওঠা আত্মিক সম্পর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ কারণেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল থেকে এবার সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, বিজেপির পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ সফরে যাবে। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হল যশোরের ডহরমশিয়াহাটি গ্রামের সাম্প্রতিক ঘটনার বাস্তব চিত্র দেখা এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো। সফরে নেতৃত্ব দেবেন বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক স্বপন মজুমদার। তারা পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে যশোরে প্রবেশ করে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন।
শুক্রবার বিকেলে কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে বিজেপির প্রতিনিধিদল স্মারকলিপি জমা দেয়। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, হাইকমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা সহ খাদ্যসামগ্রী ও টিন বিতরণ করা হয়েছে, এবং ইতিমধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ প্রশাসন। বিজেপিও চাইছে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করতে, তবে সরাসরি নয়, বরং রামকৃষ্ণ মিশন, গৌড়ীয় মঠ, ভারত সেবাশ্রম সংঘের মাধ্যমে সাহায্য পৌঁছনোর অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Amit Shah : এবার কি নেতৃত্বে বদলের বার্তা আসবে? শাহী সফরের দিকে তাকিয়ে বঙ্গ বিজেপি, রবিতে কী বলবেন শাহ?
জানা গেছে, এক বিএনপি নেতার হত্যাকে কেন্দ্র করে যশোরের ডহরমশিয়াহাটি গ্রামে মতুয়া সম্প্রদায়ের উপর হামলা চালানো হয়। শুভেন্দুর মতে, অন্তত ১৮টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই বিজেপি দলটি সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে সরেজমিন পরিস্থিতি দেখে আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি তুলে ধরা যায় এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়। সফর শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং এটি দুই বাংলার মানবিক সম্পর্কেরও প্রতিফলন।






