সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে চালু হওয়া নানা আর্থিক নীতির পেছনে লুকিয়ে থাকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট। কিন্তু যখনই সেই রিপোর্ট সাধারণের সামনে প্রকাশে অনীহা দেখা যায়, তখনই তৈরি হয় প্রশ্ন। এবার তেমনই এক প্রশ্ন তুলে কড়া বার্তা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রণীত ষষ্ঠ পে কমিশনের সুপারিশ এতদিনেও প্রকাশ করা হয়নি। অথচ সেই সুপারিশকে সামনে রেখেই রাজ্য দাবি করছে, তারা কর্মীদের বেতন কাঠামো ঠিকমতো মেনে চলেছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক সরকারি কর্মী।
দেবপ্রসাদ হালদার নামে এক সরকারি কর্মী হাইকোর্টে মামলা করেন ষষ্ঠ পে কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ না করা নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের নির্দিষ্ট পে কমিশনের ওয়েবসাইটে এই সংক্রান্ত কোনও তথ্য নেই। অথচ মহার্ঘভাতা (DA) মামলায় রাজ্য আদালতে দাবি করে যে, ষষ্ঠ পে কমিশনের সুপারিশ তারা মেনে চলেছে। বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয় অসঙ্গতি। মঙ্গলবার ছিল সেই মামলার শুনানি, যেখানে বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপক্ষের আইনজীবীরা।
শুনানিতে বিচারপতি রাজ্যকে প্রশ্ন করেন, “এই রিপোর্ট কবে পাবলিক ডোমেনে আসবে?” রাজ্যের তরফে কোনও নির্দিষ্ট উত্তর দেওয়া হয়নি। তখনই বিচারপতি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে এই রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে। তিনি জানিয়ে দেন, অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারের নেতৃত্বে গঠিত পে কমিশনের সুপারিশ নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।
বিচারপতি বলেন, “পে কমিশনের সুপারিশ কোনও গোপন নথি নয়। এটা সমস্ত সরকারি কর্মচারীর অধিকার।” পাশাপাশি রাজ্যের আইনজীবীকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি, “নিজেদের কাছে এই রিপোর্ট রেখে কী লাভ? এত বড় ভলিউমে রিপোর্ট তৈরি করলেন, অথচ তা প্রকাশ না করলে তার কোনও অর্থ হয়?” বিচারপতির তীব্র মন্তব্য, “আমি বুঝতে পারছি না এতে এত লুকানোর কী আছে?”
আরও পড়ুনঃ ‘ছোট স্তন, বড় করে দেব…’ শুটিং ফ্লোরেই অশালীন মন্তব্য করেন পরিচালক! ভয়ে শিউরে উঠেছিলেন দীপিকা? কি ঘটেছিল তারপর?
এই রায়ের ফলে রাজ্য সরকারকে পে কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশে বাধ্য হতে হবে। আদালতের বক্তব্যে স্পষ্ট, সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই নির্দেশ। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ এখন সরকারি স্বচ্ছতা ও কর্মচারী অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে। দেখার বিষয়, ১ জুলাইয়ের মধ্যে রাজ্য নির্দেশ মানে কি না।





