সরকারি বাসভবন ঘিরে চরম বিতর্কে দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় (DY Chandrachud)। শীর্ষপদ থেকে অবসর নেওয়ার পরও কৃষ্ণ মেনন মার্গে বরাদ্দ বাংলোটি এখনও তিনি ছাড়েননি, এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। অথচ তাঁর ওই বাংলো ছেড়ে দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি পাঠিয়ে চন্দ্রচূড়ের কাছ থেকে বাংলোটি অবিলম্বে খালি করানোর নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
বর্তমানে শীর্ষ আদালতের বিচারপতির সংখ্যা ৩৩ হলেও, তাঁদের মধ্যে চারজন বিচারপতির এখনও পর্যন্ত সরকারি আবাসন বরাদ্দ হয়নি। তিনজন রয়েছেন ট্রানজিট হাউজে এবং একজন অতিথিশালায়। এই অবস্থায়, কৃষ্ণ মেনন মার্গের যে বাংলোটি প্রাক্তন CJI দখল করে রেখেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত। কারণ, সেটি বর্তমান বিচারপতিদের মধ্যে কাউকে বরাদ্দ করা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
১ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের তরফে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে অবিলম্বে ওই বাংলোর দখল নিতে হবে। কারণ, তাঁর থাকার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা অর্থাৎ ৩১ মে ও ১০ মে-র মধ্যে যা নির্ধারিত ছিল, তা ইতিমধ্যেই পার হয়ে গিয়েছে। যদিও চন্দ্রচূড় অবসরের পরে মৌখিক ভাবে বাংলোটি আরও কিছুদিন রাখতে চেয়েছিলেন এবং সেই মতো তাঁকে এপ্রিল পর্যন্ত মাসিক ৫৪৩০ টাকা ভাড়ায় থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই মেয়াদও ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় জানিয়েছেন, তিনি স্বেচ্ছায় বাংলো ছাড়েননি এমনটা নয়। সরকারের তরফে তাঁকে বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ওই বাড়িতে এখনও মেরামতি ও সংস্কারের কাজ চলছে। সেই কাজ শেষ হলেই তিনি অবিলম্বে বাংলো ছেড়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর দুই কন্যা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এবং তাঁদের উপযুক্ত আবাসন খুঁজতেই দেরি হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ RG Kar: তিলোত্তমার মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদে নামার বার্তা, ৯ আগস্ট শুভেন্দুর নবান্ন অভিযান!
চন্দ্রচূড় আরও জানান, তাঁর দুই কন্যার একজন ‘নেমালিন মায়োপ্যাথি’ নামে একটি জটিল জিনগত সমস্যায় আক্রান্ত। AIIMS-এ চিকিৎসাও চলছে। এই কারণে বাড়ি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া কিছুটা সময়সাপেক্ষ হয়েছে। তবে তিনি সর্বোচ্চ পদে ছিলেন এবং নিজের দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতন বলেই এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টকে আগেই জানিয়েছিলেন। তবুও শীর্ষ আদালত এবার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—আর দেরি নয়, অবিলম্বে বাংলো খালি করতে হবে।





