মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা কয়েক মাস আগেও যেখানে হঠাৎ উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেই ঘটনার রেশ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। সময় পেরিয়ে গেলেও প্রশ্নগুলো যেন রয়ে গেছে আগের মতোই। তদন্ত কতদূর এগোল? দোষীদের শাস্তি হবে তো? আর এই সমস্ত প্রশ্নের মাঝেই এবার নতুন করে আলোচনায় উঠে এল এই বহুল চর্চিত হিংসার ঘটনা।
ঘটনার পর তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। শুরুতে জোরকদমে তদন্ত চললেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চার্জশিট জমা দেওয়া জরুরি। কিন্তু সেই সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পরেও তা না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয় জটিলতা। তদন্ত রিপোর্ট জমা না পড়ায় আইনি প্রক্রিয়াতেই দেখা দিল বড় ফাঁক।
এই পরিস্থিতিতেই বড় সিদ্ধান্ত নিল বিশেষ আদালত। ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট জমা না পড়ায় ধৃতদের মধ্যে ১৫ জন অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে, মোট ৩৫ জন অভিযুক্তের মধ্যে এই ১৫ জন আপাতত মুক্তি পেলেও তাঁদের উপর বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ফলে আইনত তারা মুক্ত হলেও নজরদারির বাইরে নয় এমনটাই স্পষ্ট করেছে আদালত।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুতেই ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেলডাঙায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। মৃতদেহ গ্রামে ফিরতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় মানুষ। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ, রেললাইন বন্ধ একসময় পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়ে। শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার মহেশপুর সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘক্ষণ ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গেও সংঘর্ষ বাধে বিক্ষোভকারীদের। এমনকি ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রান্ত হন সাংবাদিকরাও।
আরও পড়ুনঃ নিজের ছবিতেও মালা পরিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ, মাটিতে ফেলে রেখে যান প্রয়াত অভিনেতার ছবি! রাহুলের ছবি ঘিরে ঠান্ডা লড়াইয়ে জিতু ও পায়েল! মুখ খুলেছেন দুই পক্ষই, কার কথা সত্যি?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও কম হয়নি। বিরোধী শিবির শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি তোলে। পরে আদালতের নির্দেশে সেই পদক্ষেপও নেওয়া হয়। মামলাটি উচ্চ আদালত থেকে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত তদন্তের দায়িত্ব যায় কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে। তবে এতকিছুর পরেও চার্জশিট জমা না পড়ায় এখন বড় প্রশ্ন তদন্তে এই গাফিলতি কেন? আর এই ফাঁকেই কি আইনের সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে অভিযুক্তরা? বেলডাঙার সেই অশান্ত অধ্যায় কি তবে এখনও শেষ হয়নি এই প্রশ্নই ঘুরছে সাধারণ মানুষের মনে।





