ভোটার তালিকা গণতন্ত্রের মেরুদণ্ড—নতুন ভোটার যুক্তকরণ হোক বা পুরনোদের সংশোধন, প্রতিটি তথ্যের নির্ভুলতা বজায় রাখা নির্বাচন ব্যবস্থার প্রথম শর্ত। অথচ সেই প্রক্রিয়া নিয়েই এবার রাজ্যে উঠল গুরুতর প্রশ্ন। বারুইপুর পূর্ব ও ময়না বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। নির্বাচন কমিশনের তরফে এই দুই কেন্দ্রের একাধিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে কড়া ব্যবস্থা। কী এমন ঘটল যার জেরে এত বড় পদক্ষেপ নিতে হল কমিশনকে?
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে, বারুইপুর পূর্ব ও ময়নার ERO এবং AERO—সব মিলিয়ে চারজন আধিকারিকের ভূমিকা ছিল চরম গাফিলতিপূর্ণ। অভিযোগ, তাঁরা নতুন ভোটারদের নাম তালিকাভুক্ত করার সময় অবৈধভাবে ১২৭ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কমিশনের তরফে স্পষ্ট বলা হয়েছে, তাঁরা শুধুমাত্র কর্তব্যে গাফিলতি করেননি, বরং তাঁদের লগ-ইন আইডি অন্য ব্যক্তির সঙ্গে শেয়ার করে তথ্য নিরাপত্তার নীতিও লঙ্ঘন করেছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বারুইপুর পূর্বের ERO দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী ও ময়নার ERO বিপ্লব সরকারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। একইসঙ্গে সাসপেন্ড হয়েছেন বারুইপুর পূর্বের AERO তথাগত মণ্ডল ও ময়নার AERO সুদীপ্ত দাস।
সাসপেনশনের পাশাপাশি অভিযুক্ত চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে FIR দায়েরের নির্দেশও দিয়েছে কমিশন। শুধু তাই নয়, ময়নার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদার এবং আরও দুই WBCS অফিসারের বিরুদ্ধেও নেওয়া হচ্ছে আইনি পদক্ষেপ। বলা হয়েছে, যেভাবে ডেটা এন্ট্রি ও যাচাই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে, তা স্পষ্টভাবেই “criminal misconduct” এর পর্যায়ে পড়ে। BLO বা বুথ লেভেল অফিসারদের রিপোর্ট যাচাই না করেই তথ্য আপলোড করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এর ফলে ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
জাতীয় নির্বাচন কমিশন থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে, তাতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে ওই চারজন আধিকারিক শুধুই ভুল করেননি, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে বেআইনি কাজ করেছেন। BLO-দের প্রেরিত তথ্য যথাযথ না হলেও সেটি যাচাই না করেই নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন মনে করছে, এই প্রক্রিয়ার পেছনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দুর্নীতির গন্ধ রয়েছে। তাই কেবলমাত্র শাস্তিমূলক পদক্ষেপই নয়, আইনি পদক্ষেপের নির্দেশও জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Astrology: ২৩ অগস্ট শুক্রের নক্ষত্র পরিবর্তন, ভাগ্যের মোড় ঘুরবে বহু রাশির, ধৈর্য ধরার বার্তা জ্যোতিষশাস্ত্রে
গোটা ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে ভোটার তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে। যাঁরা তালিকা তৈরি ও যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকেন, যদি তাঁরাই অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে ভোটের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে কীভাবে? আগামী নির্বাচনের আগে এমন ঘটনা রীতিমতো উদ্বেগজনক। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপে আপাতত কিছুটা স্বস্তি মিললেও, প্রশাসনের ভিতরে দুর্নীতির এই ছবি নিয়ে চিন্তিত রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ সবাই।





“আগে হিন্দু, তারপর বাঙালি…যে রক্ষা আমাদের রক্ষা করবে, আমি তাদের দলে” “আমি হিন্দুস্থান চাই” বাংলায় পদ্মফুলের উত্থানেই খুশি অভিজিৎ ভট্টাচার্য! বিজেপির সাফল্যের পর খুললেন মুখ! গায়কের মন্তব্যে তোলপাড় নেটদুনিয়া!