এক বছর আগে রাজ্যের চিকিৎসা মহলে তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছিল এক মর্মান্তিক ঘটনা। সেই ঘটনার প্রথম বার্ষিকী সামনে আসতেই ফের উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। বিচার ও প্রতিবাদে ফের সরব হয়েছেন অনেকে। তবে বিস্ময়ের বিষয়, আরজি কর কাণ্ডের বর্ষপূর্তিতে নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়ালেও, আন্দোলনে থাকছেন না সেই সময় পথে নামা জুনিয়র ডাক্তারদের একটি বড় অংশ। প্রশ্ন উঠছে, কেন তাঁরা নবান্ন অভিযানে অংশ নিচ্ছেন না?
জুনিয়র ডাক্তারদের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ৯ অগস্টের নবান্ন অভিযানে তাঁরা থাকছেন না। তাঁদের যুক্তি, এই কর্মসূচি কোনও নিরপেক্ষ উদ্যোগ নয়, এর সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রথম এই কর্মসূচির কথা জানান এবং পরে নির্যাতিতার বাবা-মাও জানিয়ে দেন, তাঁরা এই অভিযানে অংশ নেবেন। তবে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের মত, রাজনৈতিক রঙ লেগে গেলে প্রকৃত প্রতিবাদ দুর্বল হয়ে পড়ে।
গত বছরের ৯ অগস্ট রাতে আরজি কর হাসপাতালের চার তলার সেমিনার হল থেকে এক চিকিৎসক-ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল। ঘটনার পরে জুনিয়র ডাক্তাররা একাধিক দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামেন, বিচার এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে স্লোগান ওঠে। তবে এবার তাঁদের বক্তব্য, “সিবিআই তদন্তের গাফিলতি এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা আমাদের হতাশ করেছে। আমরা চাই, নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং বিচার হোক, কিন্তু রাজনৈতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই দাবি তুলতে পারি না।”
এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারী চিকিৎসক সংগঠন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট’ ৮ অগস্ট নিজেদের পৃথক কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছে। ওই দিন রাত ১২টা থেকে পরদিন ভোর ৪টা পর্যন্ত শ্যামবাজার থেকে কলেজ স্কোয়্যার পর্যন্ত মশাল মিছিল হবে। গত বছর ঠিক এই সময়েই ঘটনাটি ঘটেছিল। সেই কারণেই একই সময় বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে সংগঠনের তরফে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এই মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ War Threat : পূর্ব ভারত লক্ষ্য করে হামলার হুমকি পাকিস্তানের! ভারতকে ‘সবদিকে আঘাত’-এর বার্তা দিল ISPR!
জুনিয়র ডাক্তারদের স্পষ্ট বক্তব্য, “আমরা রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে সবসময় দূরে থেকেছি, এবারও থাকব। নির্যাতিতার পরিবারের প্রতি আমাদের সহানুভূতি যেমন রয়েছে, তেমনই আন্দোলনের পবিত্রতাও বজায় রাখতে চাই।” তাঁদের মতে, যদি পরিবার নিজেরাই কর্মসূচির ডাক দিত, তবে বিষয়টি আলাদা হতো। কিন্তু বিরোধী দলের নেতার নেতৃত্বে সেই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা চাইছেন, বিচার হোক, তবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে।





“হিরণের বাড়িতে দু’টো বউ, সোহমের কিন্তু একটাই বউ…” দলীয় প্রার্থীর প্রশংসা করে, বিপক্ষ তারকা প্রার্থীকে খোঁচা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের! নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসকদল বনাম বিজেপির সংঘাতে উত্তেজনা তুঙ্গে!