ভোটের আগে রাজ্যের একাধিক জায়গায় উত্তেজনার খবর সামনে আসছে। রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে শুরু করে পাড়ার মোড়, সবখানেই এখন তর্ক-বিতর্ক, অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের রেশ। ঠিক এমনই এক পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল বরাহনগর। সোমবার রাতের একটি ঘটনা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কী ঘটেছিল সেই রাতে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে, আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন ব্যস্ত রাজনৈতিক মহল।
ঘটনার সূত্রপাত বরাহনগরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলা এলাকায়। সেদিন সেখানে একটি রাজনৈতিক সভা করেছিল বিজেপি। সভা শেষ হওয়ার পরই পরিস্থিতি বদলে যায় বলে অভিযোগ। বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ দাবি করেছেন, আচমকাই কিছু দুষ্কৃতী সেখানে হাজির হয় এবং শুরু হয় হুমকি ও গালিগালাজ। এরপর মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, ওই দুষ্কৃতীরা হঠাৎ করেই বিজেপি কর্মীদের উপর চড়াও হয়।
বিজেপির অভিযোগ, এই হামলায় তাঁদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। শুধু মারধর নয়, বন্দুকের বাট দিয়ে আঘাত করার অভিযোগও উঠেছে। সজল ঘোষের দাবি, এই হামলার পিছনে তৃণমূল আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী রয়েছে এবং তাদের নেতৃত্বে ছিলেন অজয় গুপ্তা নামে এক ব্যক্তি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও একাধিকবার এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে এবং পুলিশকে জানানো হলেও তেমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপি কর্মীদের নিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভে সামিল হন সজল ঘোষ। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী উপস্থিত থাকলেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। বিক্ষোভের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও নাটকীয় মোড় নেয়, যখন সজল ঘোষের ফোনে আসে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগারওয়াল-এর কল। ফোনে তিনি গোটা ঘটনার বিবরণ দেন এবং দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান।
আরও পড়ুনঃ কয়েক বছর ধরেই নাকি বেড়েছে দূরত্ব, এমনটাই ফিসফাস ইন্ডাস্ট্রিতে! ১৪ বছরের সম্পর্কের পরিণতি কী তবে বিচ্ছেদ? বৈবাহিক জীবনের ইতি টানতে চলেছেন রণবীর দীপিকা? মুখ খুললেন অভিনেত্রী!
ফোনালাপের পর সজল জানান, নির্বাচন কমিশনের তরফে তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ জমা পড়লে তবেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। রাত পর্যন্ত সেই অভিযোগ দায়ের হয়নি বলেই খবর। তবে এই ঘটনার পর বরাহনগরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তা বলাই বাহুল্য।





