এবার মদের দোকানে মাতাল নিয়ন্ত্রণে স্কুল শিক্ষক নিয়োগ!

মদের দোকানের বাইরে ভিড় ঠেকাতে সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের হাঁক পাড়ল অন্ধ্র সরকার! দেশজুড়ে মদের দোকান খোলার সঙ্গে সঙ্গেই মদের দোকানগুলোর বাইরে তিল ধারণের জায়গা নেই। ঠেলাঠেলি, হই হট্টগোল সব চলছে ইচ্ছেমত। সোশ্যাল ডিস্টেংসিং উঠেছে শিকেয়। দেশজুড়ে সুরাপ্রেমীদের ছবিটা একই রকম।

এই পরিস্থিতিতে দোকানের সামনে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের সাহায্যে নিল অন্ধ্রের বিশাখাপত্তনম প্রশাসন। স্পষ্ট যুক্তি, বিগড়ে যাওয়া ছাত্র শাসন করা সম্ভব হলে মাতাল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না কেন? তবে এই কাজে শিক্ষকরা যথেষ্ট অপমানিত বোধ করলেও সরকারের কুছ পরোয়া নেহি!

আবগারি দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ভাস্কর রাও বলেছেন, জেলায় ৩১১টি মদের দোকান রয়েছে, ২৭২টি খোলা। ভিড় সামলাতে তাই সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যাঁরা দোকানের বাইরে লাইন দিয়েছেন, তাঁদের হাতে টোকেন তুলে দিচ্ছেন তাঁরা। নম্বর এলে ক্রেতারা যাচ্ছেন কাউন্টারের দিকে। বিশাখাপত্তনমের আনাকাপাল্লি শহরের শিক্ষক লক্ষ্মী নারায়ণ জানিয়েছেন, তিনি বুখাইয়াপেট মণ্ডলের শিক্ষক। সঙ্গে রয়েছেন আনাকাপাল্লি মণ্ডলের শিক্ষক মহেশ। একটি মদের দোকানে ডিউটি দিচ্ছেন তাঁরা। প্রত্যেক মদের দোকানে এভাবেই ২ জন করে শিক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে। শিক্ষকের পেশা হল পরিষেবা দেওয়া। যে কোনও জায়গায় পরিষেবা দিতে তাঁরা তৈরি। কিন্তু এভাবে মদের দোকানে কাজ করতে বাধ্য হওয়ায় অপরাধবোধ হচ্ছে বলে শিক্ষকদের মত। কোনও শিক্ষকই এই কাজ করতে চাইছেন না। সরকারের প্রয়োজনে যে কোনও কাজ করতে তাঁরা প্রস্তুত কিন্তু অনুরোধ, মদের দোকানে যেন কাজ করতে না হয়।

এর মধ্যে স্থানীয় একটি মদের দোকানের বাইরে মহিলারা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, সবজির বাজার খোলা মাত্র ৩ ঘণ্টা অথচ মদের দোকান ৭ ঘণ্টা করে খোলা থাকছে।

মদের দাম সব মিলিয়ে ৭৫ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে অন্ধ্র প্রদেশ সরকার। সোমবার ২৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর পরদিনই তারা ফের দাম বাড়িয়ে দেয় আরও ৫০ শতাংশ। মুখ্যমন্ত্রী জগন রেড্ডির অফিস জানিয়েছে, মদ কিনতে যেন সাধারণ মানুষ আগ্রহী না হন, তাই এই পদক্ষেপ।

আরও অন্যান্য খবর