রাজনীতি আর বিস্ফোরণকাণ্ড—এই দুইয়ের জটিল সমীকরণে ফের শোরগোল উঠল পূর্ব মেদিনীপুরে। সামনেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন, তার আগেই ভগবানপুরে ঘিরে ধরা পড়ল চাঞ্চল্যকর এক অভিযোগ। এলাকায় রীতিমতো সরব সাধারণ মানুষ। কাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ? আর কেনই বা রাজনৈতিক মহলে তৈরি হল তীব্র অস্বস্তি, সেই দিকেই তাকিয়ে এখন সবাই।
২০২২ সালের ৩ ডিসেম্বর ভগবানপুর বিধানসভা এলাকার অর্জুন নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের নাড়ুয়াবিলা গ্রামে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। তৃণমূল নেতা সহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল সেই ঘটনায়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার যায় জাতীয় তদন্ত সংস্থার (NIA) হাতে। এরপরই তদন্তে একাধিক শাসক দলের নেতার নাম উঠে আসে। তার মধ্যেই ছিলেন এলাকার বাসিন্দা সুবীর মাইতি। তদন্তে নয়া মোড় ঘুরতেই ফের চাপে পড়ল শাসক শিবির।
শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ভূপতিনগর থানার পুলিশ হানা দেয় অর্জুন নগরের কমনানবাড় এলাকায়। অভিযোগ, সেখানে একটি দশকর্মার দোকান চালাতেন সুবীর মাইতি। সেই দোকানের আড়ালেই নাকি চলত বোমা তৈরির মশলার বিক্রি। পুলিশ সেখান থেকে প্রচুর টাকার সরঞ্জাম উদ্ধার করে এবং সুবীরকে আটক করে। শনিবার তাঁকে কাঁথি আদালতে তোলা হবে। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া প্রায় ৬০ কেজি সরঞ্জাম আসলে রং ও বাজি তৈরির মশলা। তবে নাড়ুয়াবিলা বিস্ফোরণের সঙ্গে এর যোগ নেই বলেই জানাচ্ছে পুলিশ।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। ভগবানপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ মাইতি অভিযোগ করেন, ‘‘২০২৬-এর ভোটের আগে তৃণমূল বোমা তৈরির ঘর গোছাচ্ছে।’’ তাঁর দাবি, সুবীর গ্রেফতার হতেই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা থানায় ছুটে গিয়ে তাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। অপরদিকে শাসক দলের পক্ষ থেকে জেলা মুখপাত্র অপরেশ সাঁতরা জানিয়েছেন, ‘‘বিষয়টি আমার জানা নেই, খোঁজ নিয়ে পরে বলব।’’
আরও পড়ুনঃ Weather: কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস, রবিবার থেকে বাড়বে ঝড়বৃষ্টি
স্থানীয় স্তরে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার ঘিরে ময়দানে নেমেছে তৃণমূল। শাসক শিবিরের বক্তব্য, এটি নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, বিস্ফোরণ মামলার সঙ্গে যুক্তদের রক্ষা করতেই এত নাটক। পুলিশ বলছে বাজির মশলা, বিরোধীরা বলছে বোমার সরঞ্জাম—এই দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষই এখন প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি ভোটের আগে ফের ‘বিস্ফোরক’ রাজনৈতিক খেলা শুরু হলো ভগবানপুরে? সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতিতেই।






