কোভিড মহামারীর তীব্রতা অনেকটাই কমলেও এর প্রভাব এখনও মানুষকে ছেড়ে যায়নি। হাসপাতালে ভর্তি বা মৃত্যুর আশঙ্কা কমলেও আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘ সময় ধরে নানা সমস্যায় ভুগছেন। প্রথম দিকে শুধু ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্ট মনে হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা যাচ্ছে এই সমস্যাগুলো কতটা গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন, লং কোভিড কেবল সাধারণ অসুস্থতা নয়, এটি অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবন এবং কাজকর্মে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
গবেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, লং কোভিডের লক্ষণ শুধুমাত্র কয়েকটি নয়, বরং এর প্রভাব অনেক বিস্তৃত। মেলবোর্নের এক চিকিৎসক দল সম্প্রতি জানিয়েছেন, লং কোভিডের ২০০টিরও বেশি সম্ভাব্য লক্ষণ থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, এই লক্ষণ কয়েক মাস স্থায়ী হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে বছরের পর বছর পর্যন্ত সমস্যা চলতে পারে। শুধুমাত্র ক্লান্তি বা ব্রেন ফগ নয়, স্ট্রোকের লক্ষণ, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, এমনকি পার্কিনসন ডিজিজের মতো জটিল সমস্যা পর্যন্ত দেখা দিতে পারে।
গবেষকরা অস্ট্রেলিয়ায় ১২১ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর সমীক্ষা চালান, যাঁরা ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন। অধিকাংশই ৩৬-৫০ বছরের মধ্যে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। বাড়িতে চিকিৎসা নেয়া সত্ত্বেও, অনেকেই কোভিড নেগেটিভ হওয়ার পরেও কয়েক মাস বা বছরের পরেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারছেন না। WHO-এর Disability Assessment Schedule (WHODAS 2.0) এবং Short Form Health Survey (SF-36) অনুযায়ী দেখা গেছে, এই সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৯ শতাংশ গুরুতর অক্ষমতার সীমায় পৌঁছে গিয়েছেন।
দৈনন্দিন জীবনেও লং কোভিড ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা দৈনন্দিন কাজকর্মে গড়ে ২৭ দিন সমস্যায় ভুগেছেন। প্রায় ১৮ দিন কাজ করতে অক্ষম ছিলেন, এমনকি খাওয়া, পোশাক পরা বা ঘরের ছোট ছোট কাজও করতে পারেননি অনেকেই। কাজকর্মে অনিয়ম এবং জীবনযাত্রার মানের নিম্নগতি দেখা গেছে। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, কোভিডের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবকে হালকাভাবে নেওয়া মোটেও নিরাপদ নয়।
আরও পড়ুনঃ Weather: নতুন নিম্নচাপের আশঙ্কা, ফের দুর্যোগের বার্তা দক্ষিণবঙ্গে
বিশেষজ্ঞরা মনে করান, লং কোভিড শুধু শারীরিক অসুস্থতা নয়, মানসিক ও সামাজিক জীবনের উপরও প্রভাব ফেলে। তাই কেউ যদি কোভিডে আক্রান্ত হন, তা হলে রিকভারি সময় এবং স্বাস্থ্যের প্রতিটি পরিবর্তন মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা আবশ্যক। শুধুমাত্র চিকিৎসা নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমর্থন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং জীবনধারার পরিবর্তনই পারে এই সমস্যার মোকাবিলা করতে সাহায্য। লং কোভিড এখন এক বাস্তব ও গুরুতর স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ, যা উপেক্ষা করলে ব্যক্তির জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হতে পারে।






