SSC Tainted List: অযোগ্য শিক্ষকদের তালিকা ঘিরে চাঞ্চল্য! কেউ কাউন্সিলরে কাছের লোক, কেউ মন্ত্রীর আত্মীয়—অযোগ্য শিক্ষকের এই তালিকায় কতজন তৃণমূল?

বর্তমানে রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়, তবু শনিবার এসএসসি প্রকাশিত তথাকথিত ‘দাগি’দের তালিকা আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। কেউ বর্তমান জনপ্রতিনিধি, কেউ রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠ—নামের পাশে এমন পরিচয় উঠে আসতেই সাধারণের কৌতূহল বাড়ে। তবু শুরুতেই একটা প্রশ্ন থেকে যায়—এই তালিকা কি শেষ কথা, নাকি আরও খুঁটিয়ে দেখা দরকার?

শনিবার এসএসসি মোট ১,৮০৪ জনের নাম প্রকাশ করেছে। অভিযোগ এসেছে এরা অযোগ্য হয়েও চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু তালিকায় শুধু নাম ও রোল নম্বর থাকায় ধোঁয়াশা থেকেই গেছে। কারা কোন স্কুলে পড়াতেন, ঠিকানা কী—এসব না থাকায় নাম মেলাতে ভুলের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে ‘কতজন তৃণমূল’—এই প্রশ্নে কাটাছেঁড়া চললেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে আরও সরকারি তথ্য জরুরি।

তালিকা প্রকাশের আগেই নিয়োগ মামলায় আলোচ্য ছিলেন অঙ্কিতা অধিকারী—শনিবারের তালিকায় তাঁর নাম সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে। হুগলির খানাকুলের তৃণমূল নেতা ও জেলা পরিষদের সদস্য বিভাস মালিককেও দেখা গেছে ক্রমিক ৩১৬-এ, চাকরি যাওয়ার আগে তিনি তারকেশ্বরের এক স্কুলে কর্মরত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। শুধু নিজে নন, স্ত্রী সন্তোষি মালিকও নাকি একই তালিকায় রয়েছে।

তালিকায় নাম রয়েছে, প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল (রোল: 32211675003577, ক্রমিক 1069) তাকে হিঙ্গলগঞ্জের তৃণমূল সভানেত্রীর কন্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। খানাকুলেরই প্রভাবশালী নেতা নইমুল হক–এর স্ত্রী নমিতা আদক (রোল: 91512211686001467, ক্রমিক 915)—পঞ্চায়েত সমিতির স্বাস্থ্য থেকে পূর্ত—একাধিক দায়িত্ব সামলানোর সময়েই নিয়োগ পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ পক্ষের বক্তব্য। হুগলির জেলা পরিষদের তিন বারের সদস্যা সাহিনা সুলতানাও তালিকায় (ক্রমিক 1241)—পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় বারবার উঠে আসছে।

আরও পড়ুনঃ প্রবল যৌন চাহিদা থেকে আত্মহ’ত্যা! স্বাভাবিক ছিল না ঋতুপর্ণ ঘোষের মৃত্যু! পরিচালকের জন্মদিনে জেনে নিন অজানা কাহিনী

এছাড়াও, উত্তর দিনাজপুরের প্রাক্তন সভাধিপতি কবিতা বর্মণ, তৃণমূলের সময়ে চাকরি, পরে বিজেপিতে যোগ দেয় তিনি। পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থানার জলচক অঞ্চলের তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি অজয় মাঝি (রোল: 42211675007567) ও রাজপুর–সোনারপুর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কুহেলি ঘোষ—এই দুই নাম নিয়েও চর্চা জোর। কুহেলি ঘোষ প্রকাশ্যে আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই সব কিছু নিয়েই রাজ্যে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক বাড়ছে। তবে বিভ্রান্তি কাটাতে এবং নাম মেলাতে ভুল ঠেকাতে এসএসসির উচিত পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করতে হবে এমন দাবি ক্রমশ জোরাল হচ্ছে। সবশেষে বলাই যায়, এই তালিকা শুধু চাকরি নয়, রাজনীতি, স্বচ্ছতা আর বিশ্বাসযোগ্যতা—এই তিন প্রশ্নও একসঙ্গে সামনে এনে দিয়েছে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles