অর্জুন সিংয়ের বাড়ির সামনে মধ্যরাতে গুলি-বোমার তাণ্ডব, ক্ষতিগ্রস্ত ভাইপোর গাড়ি

জগদ্দলের রাত হঠাৎই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল। মঙ্গলবার গভীর রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ প্রাক্তন সাংসদ ও বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের বাড়ির সামনে শুরু হল বোমাবাজি, তারপরই গুলি। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। হইচই, চিৎকারে ঘুম ভাঙে স্থানীয়দের। পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল, তবুও থামেনি দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব। একদিকে বোমার শব্দ, অন্যদিকে টানা গুলি—জগদ্দলের মেঘনা মোড়ে যেন আতঙ্কের রাত নেমে এল।

অর্জুন সিংয়ের বাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বেই ঘটেছে এই ঘটনা। প্রথমে পুজো মণ্ডপে দুই দলের মধ্যে বচসা বাঁধে, গালিগালাজ থেকে পরিস্থিতি চরমে ওঠে। উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা একদলকে সরে যেতে বললেও পরে ফের শুরু হয় বোমা ও গুলির ঝড়। বিজেপি নেতার দাবি, এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত ছিল। তাঁর কথায়, “আমি তখন টিভি দেখছিলাম। হঠাৎ বাইরে তুমুল হইচই শুনতে পাই। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি পাশের নির্মীয়মান মন্দিরের দেওয়ালের ওপার থেকে বোমা ছোড়া হচ্ছে, গুলি চলছে। আমি নিজে বাইরে বেরোতেই ওরা পালিয়ে যায়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, বোমাবাজির সময় পুলিশকেও দিশেহারা অবস্থায় দেখা যায়। “আমার কাছে ভিডিয়ো আছে, যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে পুলিশও দৌড়ে পালাচ্ছে। ওই মুহূর্তে যদি পাল্টা গুলি চলত, বড় বিপদ হতে পারত। প্রাণহানি ঘটার সম্ভাবনা ছিল প্রবল। সবটাই একটা সাজানো পরিকল্পনা,” মন্তব্য অর্জুন সিংয়ের।

এই তাণ্ডবের খেসারত দিতে হয়েছে তাঁর ভাইপো সঞ্জয় সিংকে। যেখানে বোমা পড়েছে, গুলি চলেছে, সেখানেই খোলা আকাশের নীচে দাঁড়ানো ছিল সঞ্জয়ের গাড়ি। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। ইট-পাটকেল ছুড়ে জানলার কাচ ভেঙে দেওয়া হয়। হঠাৎ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গাড়ির অন্যান্য অংশও। পরিবারের তরফে দাবি, দুষ্কৃতীদের উদ্দেশ্যই ছিল ভয় দেখানো এবং সম্পত্তির ক্ষতি করা।

আরও পড়ুনঃ পুজোর আনন্দের মাঝেই আন্দোলনকারী শিক্ষকের জীবনে অন্ধকার, টানা দুই মাস বেতন বন্ধ হয়ে বড় ধাক্কা সরকারি কর্মীদের

রাতের এই রক্তগরম পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‌্যাফ। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয়েছে তদন্ত। কে বা কারা এই হামলার পিছনে, তার খোঁজে নেমেছে পুলিশ। স্থানীয়দের বক্তব্য, জগদ্দল এলাকায় রাজনৈতিক অশান্তি নতুন নয়, তবে এমন বোমাবাজি ও গুলির ঘটনায় আতঙ্ক এখন তীব্র। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, পুজোর আবহে এই ধরনের হামলা আরও অশান্তি ডেকে আনতে পারে।

জগদ্দলের সাধারণ মানুষ রাতভর আতঙ্কে কাটালেন। সকালেও রয়ে গিয়েছে ভাঙচুর হওয়া গাড়ি ও বোমার পোড়া চিহ্ন। এলাকাবাসীর একাংশের প্রশ্ন, পুলিশ চোখের সামনে থেকেও যখন পরিস্থিতি সামলাতে পারে না, তখন সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা কোথায় খুঁজবে?

RELATED Articles