নাগরাকাটায় ত্রাণ দিতে গিয়ে আক্রান্ত বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। সেই ঘটনার পর থেকেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্য সরকারের দিকে আঙুল তুললেও, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টিকে দেখছেন একেবারে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম! এটা কি বিজেপির নিজেদের কোন্দলের ফল নয়?”
বুধবার কলকাতায় ফিরে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “যে এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে, সেটা পুরোপুরি বিজেপির ঘাঁটি। এমপি, এমএলএ—সবই ওদের। তাহলে রাজ্য সরকারকে দায়ী করা কতটা যুক্তিযুক্ত?” তিনি আরও যোগ করেন, “বন্যা বা দাঙ্গার মতো পরিস্থিতিতে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েই যায়। ঘরবাড়ি হারালে মাথা ঠান্ডা থাকে না। তবে তদন্ত চলছে, কেউ রেহাই পাবে না।”
মমতা এখানেই থামেননি। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেতাদের আচরণ নিয়েও। তাঁর কথায়, “৩০-৪০টা গাড়ি নিয়ে হঠাৎ দুর্গত এলাকায় ঢুকে পড়া, প্রশাসনকে না জানিয়ে—এটা কি বুদ্ধিমানের কাজ? মানুষ বাঁচানোর সময় লোক দেখানো কনভয় নিয়ে যাওয়ার দরকার কী?” তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কার, তিনি ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা হিসেবে দেখছেন।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী ফের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “বিহারে ভোট আছে বলে ছটপুজোয় ফ্লাইটে ছাড় দেওয়া হয়েছে, ঠিক আছে। কিন্তু ছটপুজো তো বাংলাতেও হয়। তাহলে বাংলার জন্য সেই সুবিধা কই?” মমতার দাবি, দুর্যোগের পর বিমান ভাড়ার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের পক্ষে বিপদ ডেকে এনেছে। তাঁর ক্ষোভ, “বাগডোগরা থেকে কলকাতার টিকিট ১৮ হাজার! কেউ কেউ দিল্লি ঘুরে আসছেন ৪৫ হাজার টাকা খরচ করে। এটা বৈষম্য নয়?”
তবে সমালোচনার পাশাপাশি মমতা মনে করিয়ে দিয়েছেন রাজ্য সরকারের সক্রিয় ভূমিকার কথা। তাঁর দাবি, “বাইরে থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের জন্য ৪৫টি ভলভো বাসের ব্যবস্থা করেছি। থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও রাজ্য সরকারই করেছে।”
আরও পড়ুনঃ বাংলায় ভোটের আগে চূড়ান্ত প্রস্তুতি, SIR নিয়ে কমিশনের বিশেষ টিম কলকাতায়
রাজনৈতিক মহলের মতে, খগেন মুর্মুর উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন কৌশল নিয়েছে তৃণমূল। মোদীর সরাসরি আক্রমণের জবাবে মমতার বক্তব্য যেন এক হিসেবি পাল্টা চাল। একদিকে কেন্দ্র-বিরোধী সুর, অন্যদিকে বিজেপির অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে তুলে ধরার চেষ্টা—এই দুই মিলেই রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। প্রশ্ন উঠছে একটাই—খগেন মুর্মুর উপর হামলার আসল দায় কার? বাইরের প্রতিপক্ষ, না ঘরের ভেতরের বিভাজনই এর নেপথ্যে? এই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যৎ রাজনীতিই দেবে, তবে আপাতত মমতার মন্তব্যে যে বিজেপির অন্দরেই আলোড়ন পড়েছে, তা বলাই বাহুল্য।





