ভবানীপুর, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক বিশেষ নাম। এখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের ইতিহাস তৈরি হয়েছে। তাই এই আসন ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই ফের ভবানীপুরকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এবার সরাসরি অঙ্ক কষে বিজেপির জয় নিশ্চিত বলে দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্যে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে— তবে কি মমতার ঘরে ঢুকে আঘাত হানতে প্রস্তুত গেরুয়া শিবির?
রবিবার ভবানীপুর বিধানসভার ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহের ডাকা এক সভায় উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি বলেন, “ভবানীপুরে বিজেপির যিনিই প্রার্থী হবেন, তিনিই জিতবেন।” তাঁর দাবি, এলাকায় বহু ভুয়ো ও মৃত ভোটারের নাম বাদ যাচ্ছে। আবার SIR (বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা) শুরু হলে আরও প্রায় ৫০ হাজার নাম বাদ পড়বে। ফলে বিজেপির পক্ষে ৩০ হাজার ভোটের লিড থেকেই লড়াই শুরু হবে।
শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আউটসাইডার’ মন্তব্য তুলে ধরে বলেন, “রাজস্থান, পঞ্জাব, ঝাড়খণ্ড, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশের লোককে বহিরাগত বলা যায় না। ওঁরা সবাই ভারতীয়।” তাঁর দাবি, এই ‘ভাগ করার রাজনীতি’ বাংলার মানুষ বুঝে ফেলেছে। ফলে, এ বার ভোটে বিজেপির পক্ষে ঝুঁকছে ভবানীপুর।
শুভেন্দু মনে করছেন, সোমবার দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে SIR শুরুর ঘোষণা হতে পারে। তাঁর মন্তব্য, “এমনিতে কয়েক লক্ষ পালিয়েছে। আবার SIR ঘোষণা হলে ৮০ শতাংশ এমনি পালাবে।” এমনকি ব্যঙ্গ করে বলেন, “বাংলাদেশি মুসলিমকে ধরে দিলে যদি ৫০০ টাকা দেওয়া হয়, তাহলে তৃণমূলই সেই কাজটা করবে।”
আরও পড়ুনঃ Cyclone Montha Update: বিশাখাপত্তনমের কাছে ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’, বাড়ছে শক্তি, বাংলায় বৃষ্টি কবে থেকে?
তবে শুভেন্দুর এই আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যে চুপ থাকেনি তৃণমূল। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “দম থাকলে শুভেন্দু অধিকারী নিজে দাঁড়ান ভবানীপুরে। অন্যকে প্রার্থী করে মই কেড়ে নেবেন না।” তাঁর বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেরবার ৫৬ হাজার ভোটে জিতেছিলেন। এবার শুভেন্দু বিপরীতে প্রার্থী হলে দ্বিগুণ ভোটে জিতবেন মমতা।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট, ভবানীপুর ঘিরে ফের শুরু হয়েছে গেরুয়া বনাম সবুজের রাজনৈতিক মহারণ। এখন দেখার, শুভেন্দুর অঙ্ক বাস্তবে কতটা মেলে, নাকি মমতার ঘাঁটিতে ফের সবুজ রঙেই রাঙাবে ভোটের ফলাফল।





