মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে ফের তীব্র তরঙ্গ। এবার সরাসরি দলকেই আক্রমণ করলেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। নিজের দলের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দল যদি তাঁর বক্তব্যে অসন্তুষ্ট হয়, তবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই জেলার রাজনীতির রঙ পাল্টে যাবে। এই বক্তব্যে সরগরম রাজনৈতিক মহল, প্রশ্ন উঠছে—তৃণমূলের অভ্যন্তরে কি নতুন ভাঙন তৈরি হচ্ছে?
বুধবার ভরতপুরে তৃণমূলের এসআইআর ওয়াররুম উদ্বোধনের পর স্থানীয় সভায় বক্তৃতা দেন হুমায়ুন কবীর। সেখানেই তিনি বলেন, “আমরা কাউকে আগে আঙুল দেখাব না, কিন্তু কেউ আমাদের দিকে আঙুল তুললে আমরা দুই আঙুল তুলব। ইট ছুড়লে পাথরে জবাব দেব।” এরপরই তিনি অভিযোগ তোলেন, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে সালার ও ভরতপুরের ওসিকে ব্যবহার করে টাকা খরচ করে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময় যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের সঙ্গে আজ পর্যন্ত দলের কোনও যোগাযোগ নেই বলেও দাবি করেন বিধায়ক।
নাম না করেই কান্দির বিধায়ক তথা দলের জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকারকে একাধিকবার বিঁধেছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, “লুঠ করে নেতা হবে, আর ভোটের বেলায় তিন নম্বর, এটা চলবে না।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা—তৃণমূলের একাংশ ব্যক্তিস্বার্থে দলকে ব্যবহার করছে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগ হারিয়েছে নেতৃত্ব।
সভামঞ্চ থেকে হুমায়ুনের কণ্ঠে হুঁশিয়ারি—“দল যদি মনে করে আমার মতো অসভ্যদের দরকার নেই, তাহলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দেখিয়ে দেব মুর্শিদাবাদের রাজনীতির রঙ কীভাবে পাল্টায়।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র ক্ষোভ নয়, বরং এক ধরণের চাপ তৈরি করার কৌশল, যা দলীয় শৃঙ্খলার ভিতকেই নাড়িয়ে দিতে পারে।
আরও পড়ুনঃ Mamata banerjee : মিছিলের পরেই মুখ্যমন্ত্রীর দরজায় পৌঁছল SIR ফর্ম!বিরোধিতা না প্রচারের নতুন কৌশল?
তৃণমূল নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত এই মন্তব্যের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে দলের ভেতরে ফাটলের ইঙ্গিত স্পষ্ট। ভরতপুর থেকে কান্দি—জেলার বিভিন্ন এলাকায় কর্মী মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা, সত্যিই কি দল ছাড়ার পথে হাঁটছেন হুমায়ুন কবীর? নাকি এটি শুধু দলের ভিতরে নিজের অবস্থান মজবুত করার বার্তা? সময়ই তার উত্তর দেবে, তবে আপাতত এই ৪৮ ঘণ্টা মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে।





