Bhangar: তৃণমূল বিধায়কের সভা ঘিরে বোমা কাণ্ডে তোলপাড় ভাঙড়! শওকত মোল্লাকে টার্গেট করে হামলা না কি নিজেদের গোষ্ঠীকলহে বিস্ফোরণ?

ভাঙড়ের নাম শুনলেই এখন আতঙ্ক, বিস্ফোরণ আর রাজনৈতিক উত্তেজনার ছবি ভেসে ওঠে চোখে। বৃহস্পতিবার রাতেও সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি। রাতে হঠাৎ বোমার বিকট শব্দে কেঁপে উঠল কৃষ্ণমাটি এলাকা। কিছুক্ষণ আগেই শেষ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের সভা। উপস্থিত ছিলেন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা। সব কিছু শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছিল— কিন্তু রাত নামতেই বদলে গেল চিত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সভা শেষ করে কিছুক্ষণের মধ্যেই শোনা যায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ। আচমকা বোমা পড়তেই ঘুম ভাঙে এলাকার বাসিন্দাদের। যেখান থেকে বিধায়ক কিছু আগেই সভা শেষে গাড়িতে উঠেছিলেন, সেই মঞ্চের অল্প দূরেই ঘটে বিস্ফোরণ। পুলিশ সূত্রে খবর, শওকতের গাড়ি তখন সভাস্থল থেকে খুব সামান্য দূরত্বে ছিল। মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকা জুড়ে।

খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উত্তর কাশিপুর থানার পুলিশ। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় তল্লাশি। তদন্তকারীরা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদও চলছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আগে থেকে পরিকল্পনা করেই এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। যদিও এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। তদন্তের পাশাপাশি এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী যাতে উত্তেজনা আর না ছড়ায়।

এদিকে ঘটনার পরই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দোষারোপের পালা। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, এটি নিছক আতঙ্ক ছড়ানোর ঘটনা নয়, বরং শওকত মোল্লাকে লক্ষ্য করেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, “বিধায়ক গাড়িতে ওঠার পরই বোমা পড়েছে, এটা স্পষ্ট হামলার চেষ্টা।” তাঁদের মতে, আইএসএফ এখন এলাকায় প্রভাব হারাচ্ছে বলেই ভয় দেখাতে এমন কাণ্ড ঘটাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ Humayun Kabir: দলেই বিস্ফোরণ! তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে হুমায়ুন কবীরের হুঁশিয়ারি— “আমার মতো অসভ্যদের দরকার না হলে ফল ভুগবে দলই!”

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইএসএফ। তাঁদের দাবি, এই ঘটনা তৃণমূলের নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। এক আইএসএফ নেতা বলেন, “ওদের সভাতেই নিজেদের মধ্যে ঝামেলা হয়, আর পরে দায় চাপায় আইএসএফ-এর উপর।” উল্লেখ্য, এর আগেও ভাঙড়ে বহুবার এই দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ, বোমাবাজি ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতের বিস্ফোরণ আবারও সেই ভয় ফিরিয়ে আনল। এলাকাবাসীর একাংশের কথায়, “ভাঙড়ে রাজনীতি মানেই এখন বারুদের গন্ধ।”।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles