পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোট আসতে এখনও দেরি আছে তবে রাজনৈতিক অন্দরে এখন থেকেই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কারণ, বিজেপি নাকি বাংলাকে এবার আর সাধারণ রাজ্য নির্বাচন হিসেবে দেখছে না, বরং সামনে আসছে এক বড়সড় রাজনৈতিক লড়াই—এমনটাই বলছে দলীয় সূত্র। জল্পনা আরও ঘন হচ্ছে কারণ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লি থেকে একের পর এক সংগঠনিক মুখ নীরবে রাজ্যে ঢুকতে শুরু করেছেন। প্রশ্ন উঠছে—কোনও বড় রণকৌশল কি তৈরি হচ্ছে?
দলীয় সূত্রের দাবি, বিজেপি নাকি বাংলার জন্য আলাদা একটি অঞ্চলভিত্তিক কমান্ড কাঠামো গড়ে তুলেছে। একে তাঁরা বলছেন ‘টিম বেঙ্গল’। একে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। সূত্রের মতে, এই কাঠামো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে প্রতিটি অঞ্চলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সারা ভারত থেকে আসা অভিজ্ঞ কৌশলবিদ, সাংগঠনিক মস্তিষ্ক কিংবা বর্তমান মন্ত্রী। উদ্দেশ্য একটাই—তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা ও বুথস্তরের শক্ত ঘাঁটিকে চ্যালেঞ্জ করা। ২০২১ সালের মতো কোনও ভুল যাতে না হয়, সে দিকেও কড়া নজর।
রাঢ়বঙ্গ—পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বর্ধমান—যেখানে ২০১৯ সালে বিজেপির উত্থান হয়েছিল, সেখানেই ফের ফোকাস দিচ্ছে দল। এই অঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ছত্তিশগড়ের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক পবন সাইকে। তাঁকে সাহায্য করছেন উত্তরাখণ্ডের মন্ত্রী ধন সিং রাওয়াত। আবার হাওড়া-হুগলি-মেদিনীপুরে রাজনৈতিকভাবে অস্থির পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে নামানো হয়েছে দিল্লির সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পবন রানা-সহ আরও অভিজ্ঞ মুখদের। এদিকে কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার মতো তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে বিজেপি পাঠিয়েছে হিমাচলের সংগঠনিক মুখ এম সিদ্ধার্থন ও কর্ণাটকের সিটি রবিকে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এটা নিছক মোতায়েন নয়, বরং পূর্ববাংলার ভোট সমীকরণকে নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টা।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি আরও জটিল। মালদহ, শিলিগুড়ি, দার্জিলিং—সব মিলিয়ে বহু জাতিগত আবেগ, গোর্খাল্যান্ডের চাহিদা এবং একসময়ের বিজেপি গড়ে এখন ভাঙন দেখা গিয়েছে। এই অঞ্চলে তাই ‘ন্যারেটিভ ওয়ার’-এর কৌশল নিয়েছে গেরুয়া শিবির। দার্জিলিংয়ের দায়িত্ব গেছে জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারীর হাতে। কোচবিহার–আলিপুরদুয়ার অঞ্চলে কাজ করছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কৈলাস চৌধুরী। আর গোর্খা গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আনা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস পঙ্কজ কুমার সিংকে। সূত্র বলছে—এটি সরাসরি ২০২৬-এ চোখ রেখে প্রস্তুতি।
আরও পড়ুনঃ UP Detention Camp: UP-তে অনুপ্রবেশে লাগাম টানতে যোগীর কড়া বার্তা! জেলাশাসকদের নির্দেশ—চিহ্নিত করলেই সরাসরি ডিটেনশন ক্যাম্পে!
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অন্দরে বার্তা স্পষ্ট—২০২৬ সালের বড় সংঘর্ষের জন্য বিজেপি নীরবে পরিকাঠামো তৈরি করছে। ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী আত্মসমালোচনার পরে এবার দল নাকি আগেভাগেই ‘অপারেশন বেঙ্গল’-এ নেমে পড়েছে। এমনকি দলীয় নেতাদের কথায়, “এখন বাংলাই জাতীয় মর্যাদার লড়াই।” আর প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাম্প্রতিক মন্তব্য—“বিহার থেকে বাংলার পথে পরিবর্তনের স্রোত”—আলোচনাকে আরও তরিয়ে দিয়েছে। এখন নজর একটাই—এই নীরব প্রস্তুতি কি সত্যিই তৃণমূলের সুদীর্ঘ সংগঠনিক দেওয়ালে ফাটল ধরাতে পারবে?





