মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে আচমকাই ফের উত্তাপ। বিগত দু’দিন ধরে এমন এক দাবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন তৈরি করছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বা সরকারি ক্যাম্পে ভিড় দেখা যাওয়া নতুন নয়, কিন্তু এবার যে অভিযোগ উঠেছে, তা অনেক বেশি বিস্ফোরক। শোনা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষের পরিচয় বদলের খেলা চলেছে নিঃশব্দে! এই দাবি কতটা সত্য, তা নিয়েই আলোচনার ঝড়।
বিজেপির শীর্ষ মহল দাবি করে, মুর্শিদাবাদে গত কয়েক বছরে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারী হিন্দু নাম-পরিচয় গ্রহণ করে ভোটার তালিকায় ঢুকে পড়েছেন। দলীয় আইটি সেলের প্রধান অমিত মালভিয়া সরাসরি সংখ্যাও সামনে আনেন—তাঁর অভিযোগ, অন্তত ২.৬৮ লক্ষ সন্দেহভাজন ভোটার এমন ভাবে পরিচয় পরিবর্তন করেছেন। মালভিয়ার দাবি, তাঁদের পুরনো মুসলিম উপাধি—যেমন ‘শেখ’, ‘খান’—থেকে নতুন করে ‘মন্ডল’, ‘সরকার’, ‘চৌধুরী’ ইত্যাদি উপাধিতে নাম বদল করা হয়েছে।
এই অভিযোগ শুধু পরিচয় বদলেই সীমাবদ্ধ নয়। বিজেপির বক্তব্য, এদের অনেকেই আধার, জন্মপ্রমাণপত্র এবং ভোটার কার্ড পেয়েছেন স্থানীয় স্তরের একটি “সংগঠিত চক্রের” সহায়তায়। একই সঙ্গে দলের তরফে আরও বলা হয়েছে, এই গোটা প্রক্রিয়া নাকি একটি বড় রাজনৈতিক কৌশলের অংশ—যাতে জেলা জুড়ে একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করা যায়। অন্যদিকে সুভেন্দু অধিকারী সাম্প্রতিক এক সভায় আরও দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মিলিয়ে প্রায় “১ কোটি অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা ভোটার” থাকতে পারে—যাঁদের চিহ্নিত করা জরুরি।
তবে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই উড়িয়ে দিয়েছে। তৃণমূলের বক্তব্য, বিজেপি নিয়মিতভাবে এই ধরনের অভিযোগ তুলে মেরুকরণের রাজনীতি করছে, কিন্তু কোনও প্রমাণ দিতে পারছে না। দলের মুখপাত্রদের দাবি, বিজেপি আদালত বা কমিশনে কোনো সুনির্দিষ্ট নথি জমা দেয়নি, শুধু বিভাজন ঘটানোর জন্যই এমন বক্তব্য বারবার আনা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ West Bengal politics : মমতার দুর্গ ভাঙতেই দিল্লির শীর্ষ নেতাদের মোতায়েন! বিজেপির রহস্যময় পরিকল্পনা ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা—বাংলায় কি বড়সড় পালাবদলের খেলা শুরু?
তবে প্রশাসনের নিজস্ব রিপোর্ট এখনো প্রকাশ হয়নি। অথচ জেলাজুড়ে মানুষের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন ঘুরছে—অভিযোগগুলি কি সত্যিই তদন্তের পথে যাবে, নাকি নির্বাচনের আগে আরেকটি রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইন্ধন হিসেবেই থেকে যাবে? আগামী দিনেই হয়তো স্পষ্ট হবে, মুর্শিদাবাদের ভোটার তালিকার এই বিতর্ক নিছক অভিযোগ, নাকি আরও বড় কোনও সত্য লুকিয়ে আছে।





