বীরভূম জেলার পুলিশ প্রশাসন ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য। সাধারণত রাজনৈতিক মহল থেকেই পুলিশের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, কিন্তু এবার সমালোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন জেলারই দুই পুলিশকর্মী। একটি ভাইরাল অডিয়োকে কেন্দ্র করে চর্চা এখন সর্বত্র। প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো কোনও সাধারণ নাগরিকের ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা। কিন্তু ধীরে ধীরে জানা যায়—অডিয়োর কণ্ঠস্বর এক এএসআই–এর, আর অভিযোগের তীর সোজা পৌঁছেছে জেলা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ অফিসারের দিকে।
সিউড়ি থানার এএসআই রাজকুমার দাস সম্প্রতি তাঁর ফেসবুকে একটি অডিয়ো পোস্ট করেন। সেখানেই তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন বীরভূমের ডেপুটি পুলিশ সুপার (ডিএসপি)–এর বিরুদ্ধে। অডিয়োতে এমন সব মন্তব্য ধরা পড়েছে, যা স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক মহলে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। অভিযোগ, কিছুদিন ধরে জেলার মধ্যে ট্রান্সফারসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্তে তাঁকে এবং আরও কিছু পুলিশকর্মীকে অযথা টার্গেট করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ—“আমাদের ট্রান্সফার করে সর্বনাশ করে দিচ্ছেন। ডিএসপি–র মতো আর কোনও ক্রিমিনাল নেই। প্রমাণ চাইলে সব দেখাতে পারব।”
বিরোধীরা দাবি করছে, এএসআই–এর বক্তব্যে নতুন কিছু নেই; বরং দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে গোষ্ঠী কোন্দলের ইঙ্গিত মিলছিল। শতাব্দী রায়ের সাম্প্রতিক এসআইআর ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় যে অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, সেদিনের ঘটনায় ডিএসপির ভূমিকা ‘সন্দেহজনক’। এএসআই–এর বক্তব্য যেন সেই অভিযোগকেই আরও উসকে দিয়েছে।
সপ্তাহ খানেক আগে সাংসদ শতাব্দী রায়ের সামনেই তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি বলরাম বাগদির উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। রীতিমতো ধাক্কাধাক্কি, চড়-থাপ্পড়, এমনকি শতাব্দীর গাড়ির দিকে জুতো ছোড়া—সব মিলিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। এএসআই রাজকুমারের দাবি, সেই দিন ঘটনাস্থলে ডিএসপি উপস্থিত থাকলেও ঘটনার দায় নিজের উপর না নিয়ে তা অন্যদের উপর চাপানোর চেষ্টা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য—“যদি কারও শাস্তি হওয়ার কথা থাকে, সেটা একমাত্র ডিএসপি–রই।”
আরও পড়ুনঃ West Bengal SIR: “অনুপ্রবেশকারীরা নয় ভারতীয়রাই ভোট দেবে”—তৃণমূলকে সরাসরি আইনের ভাষায় সতর্ক করল নির্বাচন কমিশন, এসআইআর ঘিরে আরও বাড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ!
বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সহ–সভাপতি দীপক দাস বলেন, “শতাব্দী রায়ের গাড়িতে জুতো মারা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু এটা যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এএসআই যা বলেছে তা খুব ভুল নয়। পুলিশের ভেতরের নোংরামি রুখতে হবে।” যদিও পুলিশ প্রশাসনের তরফে এই অডিও বা অভিযোগ নিয়ে এখনো কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তুঙ্গে।





