ভোটের মরশুম এলেই দলবদলের হাওয়া বইতে শুরু করে। বিশেষ করে ভোটের আগে নানা দল থেকে নেতা-কর্মীদের ভিড় জমে যায় বিজেপির যোগদান মঞ্চে। কিন্তু এবারের ছবি যেন একটু আলাদা। বঙ্গ বিজেপির অন্দরে কথাবার্তা ঘুরছে—অতিরিক্ত ভিড় কখনও কখনও বিপদও ডেকে আনে। তাই রাজ্যের একটি অংশে এখন থেকেই আলোচনা, নতুন করে পথ পরিবর্তন আনতে চলেছে গেরুয়া শিবির। তবে কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দল নিজের ভিত আরও শক্ত করতে চাইছে, কিন্তু সেটা আগের মতো ঝমঝমে মঞ্চ গড়ে নয়।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এ বার যোগদান নিয়ে বেশি সতর্ক। যাঁরা অন্য দল থেকে আসতে চান, তাঁদের যোগ্যতা, রাজনৈতিক অবস্থান, এমনকি আদর্শগত মিল—সবটাই এবার গুরুত্ব পাবে। শুধু নামী নেতাকে সামনে এনে ঢাকঢোল পিটিয়ে যোগদান করানোর দিন আপাতত শেষ। বরং যে নেতা এলাকায় বিজেপিকে শক্তি বাড়াতে পারবেন, সেই ব্যক্তির ওপরে গুরুত্ব দিচ্ছে নেতৃত্ব। এতে একদিকে যেমন অন্তর্দ্বন্দ্ব কমবে, তেমনই দলবদলের চাপও কমবে বলে মনে করছেন অনেকেই।
একুশের ভোটের আগে এমন ছবি ছিল না। তখন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ‘যোগদান মেলা’ হয়েছিল, কলকাতা থেকে দিল্লি—সব জায়গাতেই দলে ভিড় জমিয়েছিলেন বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা। কেউ কেউ তো চাটার্ড বিমানে করে দিল্লিতে গিয়ে যোগদান করেছিলেন। বিজেপির আগের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সময়ে এই কর্মসূচি বিশেষ গতিশীল ছিল। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। নতুন পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল নাকি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—অযথা ভিড় নয়, দরকার যোগ্য এবং আদর্শবান নেতা।
দলের ভিতরে অনেকে মনে করছেন, অতিরিক্ত দলবদলু আসার ফলে আদর্শগত দিক থেকে কোথাও যেন বিজেপির মূল ভাবধারা ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিল। নির্বাচনী প্রচারেও তার প্রভাব পড়েছিল। বিজেপির ভোট ম্যানেজারদের কথায়, “যাঁদের মানসিকতা আলাদা, তাঁরা দলে এসেই বিভ্রান্তি তৈরি করেন।” তাই এবার ‘বেনোজল’ ঢোকার পথ বন্ধ করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। যোগদান করতে চাইলে প্রথমে কাজ করতে হবে। পরে পরিস্থিতি দেখে টিকিট দেওয়া হবে কি না, সেটাও সিদ্ধান্ত নেবে দল।
আরও পড়ুনঃ West Bengal Police Controversy: সরকারি পোশাকেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব?ডিএসপি–কে ক্রিমিনাল বলেই এএসআই–এর বিস্ফোরক অডিও ভাইরাল!
সুনীল বনশল নাকি দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি লোকসভা কেন্দ্রের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন—রাজ্য অফিসে বড় মাপের যোগদান ছাড়া আর কিছু হবে না। মণ্ডল বা জেলা স্তরের নেতাদের যোগদান সেখানেই সেরে ফেলা হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, “টিকিটের শর্তে কোনও যোগদান নয়।” অর্থাৎ বিজেপি এবার চায় নিজেদের ভাবমূর্তিকে নতুন করে গুছিয়ে তুলতে। তৃণমূলের সঙ্গে কোনও মিল নেই—এই বার্তাটাই স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে তারা।





