পাকিস্তানের রাজনীতিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঘনীভূত হয়েছিল এক অদ্ভুত উত্তাপ। জেলবন্দি ইমরান খানকে নিয়ে নানা প্রশ্ন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজব, পরিবারের উদ্বেগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে তাঁর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে চলতে থাকা জল্পনা সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল বাড়াচ্ছিল। আদিয়ালা জেলের উচ্চ নিরাপত্তা প্রাচীরের আড়ালে আসলে কী ঘটছে—সেটাই ছিল বড় প্রশ্ন।
পরিবারের অভিযোগে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছিল। ইসলামাবাদ হাই কোর্ট সপ্তাহে কমপক্ষে দু’বার সাক্ষাৎ-অনুমতি দেওয়া সত্ত্বেও, জেল কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশ মানছে না—এমনই দাবি ছিল ইমরানের নিকটজনদের। বোন উজ়মা, আলিমা ও নুরা—তিনজনই একাধিকবার জেলে পৌঁছে বাধার মুখে পড়েন। এমনকি গত ১৯ নভেম্বর নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরির মাঝে তাঁদের ধর্নায় বসার কথাও সামনে আসে। সেই সময় শারীরিক হেনস্থার অভিযোগও তোলা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে।
জেলের ভিতরে ইমরানের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে থাকে, তাঁর ওপর হামলার আশঙ্কা, এমনকি খুনের গুজবও ছড়িয়ে পড়ে। যদিও পাকিস্তান প্রশাসন তা বরাবরই অস্বীকার করেছে। তবুও পরিবারের উদ্বেগ কমেনি। আদালত অবমাননার অভিযোগে ইসলামাবাদ হাই কোর্টে আলিমা আবেদন জানালে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। পিটিআই-র পক্ষ থেকেও ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়: কেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না—এই প্রশ্নেই উত্তাল হয়ে ওঠে রাস্তাঘাট।
দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ উজ়মা খানুমকে দেখা করার অনুমতি দেয়। নির্দিষ্ট সময় ধরে জেলের ভিতরে কথোপকথনের পর বাইরে বেরিয়ে তিনি জানান—ইমরান সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে কোনও তাৎক্ষণিক উদ্বেগ নেই। এই বক্তব্যই মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে এবং জনমাধ্যমে।
আরও পড়ুনঃ Supreme Court on Rohingya: ‘অবৈধভাবে দেশে ঢুকে এখন সুবিধা চাইছে রোহিঙ্গারা? ‘আমরা কি রেড কার্পেট বিছিয়ে স্বাগত জানাব?’—সুপ্রিম কোর্টের বিস্ফোরক প্রশ্নে নতুন বিতর্ক!
যদিও উজ়মার এই সাক্ষাৎ কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে, পরিস্থিতির জট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। হাই কোর্টের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায় সবাই। আর পিটিআই সমর্থকদের দাবি—নিয়মিত সাক্ষাৎ-অধিকার, ন্যায্য আচরণ এবং আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করা। আপাতত জেলের ভেতর থেকে আসা উজ়মার বার্তা কিছুটা আলো দেখালেও, ইমরান খানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথ কোনদিকে মোড় নেবে—সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।





