Supreme Court on Rohingya: ‘অবৈধভাবে দেশে ঢুকে এখন সুবিধা চাইছে রোহিঙ্গারা? ‘আমরা কি রেড কার্পেট বিছিয়ে স্বাগত জানাব?’—সুপ্রিম কোর্টের বিস্ফোরক প্রশ্নে নতুন বিতর্ক!

ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের ঘটনা নতুন নয়। সময় বদলালেও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবৈধ প্রবেশের আশঙ্কা কমেনি। বিশেষত রোহিঙ্গা ইস্যু বহুদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই জনগোষ্ঠীর অবস্থান ও আইনি স্বীকৃতি নিয়ে চলছে বিতর্ক। এ পরিস্থিতিতেই সুপ্রিম কোর্টে ফের উঠল রোহিঙ্গাদের আইনগত পরিচয় ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ মামলা।

মঙ্গলবারের শুনানিতে এই প্রশ্ন ঘিরেই তর্ক-বিতর্ক তৈরি হয় আদালতে। অভিযোগ ছিল, দিল্লির একটি এলাকা থেকে কয়েকজন রোহিঙ্গাকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে এবং এরপর আর তাঁদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালতের দ্বারস্থ হন এক আইনজীবী, যিনি দাবি করেন—যদি তাঁদের দেশ থেকে বার করতেই হয়, তবে তা যেন নিয়ম মেনে করা হয়।

প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত জানিয়ে দেন, রোহিঙ্গাদের ‘শরণার্থী’ হিসেবে ঘোষণা করে সরকার কোনও নির্দেশ জারি করেনি। তাঁর কথায়, ‘‘শরণার্থী একটি আইনি শব্দ, যা সরকারই ঘোষণা করে। যাঁদের সেই স্টেটাস নেই, তাঁরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের রাখার দায় আমাদের কোথায়?’’ তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন—‘‘অবৈধভাবে সীমান্ত টপকে এলে আমরা কি তাঁদের জন্য রেড কার্পেট বিছিয়ে দেব?’’

প্রধান বিচারপতি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কেউ যদি টানেল খুঁড়ে বা প্রাচীর টপকে দেশে ঢোকে, তারপর দাবি করে খাবার, আশ্রয়, শিক্ষা—এটা কীভাবে সম্ভব? আইনজীবী অবশ্য জানান, শরণার্থী মর্যাদা নয়, তাঁরা শুধু নির্বাসনের নিয়ম মেনে চলার দাবি করেছেন। পাশাপাশি বলেছেন, জেল হেফাজত থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া গুরুতর নিরাপত্তা সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।

আরও পড়ুনঃ West Bengal SIR : বিএলওদের মৃত্যুর ছায়ায় কমিশনের নতুন পদক্ষেপ! ভোটার তালিকা স্বচ্ছ করতে শুরু হতে চলেছে এআই-ভিত্তিক স্ক্যানিং!

এছাড়া তিনি জানান, দেশের দরিদ্র নাগরিকদের অধিকারই আগে গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তাঁদের প্রশ্ন—‘‘আমাদের দেশের গরিব মানুষের কি সুবিধা পাওয়ার অধিকার নেই?’’ যদিও তিনি এও বলেন, কোনও অনুপ্রবেশকারীকে ‘থার্ড ডিগ্রি’ দেওয়ার কথা আদালত সমর্থন করে না। মামলাটি রোহিঙ্গা সংক্রান্ত অন্যান্য মামলার সঙ্গেই একত্রে শোনা হবে বলে জানান বেঞ্চ। এই পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট—রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত কঠোর অবস্থান নিয়েছে, এবং আইনি পরিচয় নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের সুবিধা বা আশ্রয় পাওয়ার দাবি স্বীকৃতি পাবে না।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles