মালদহের বৈষ্ণবনগরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে উষ্ণতা বেড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবিত এলাকায় হঠাৎই নতুন রাজনৈতিক ঢেউ উঠেছে, যেখানে এক নারী কংগ্রেস কর্মী এখন নতুন দল থেকে প্রার্থী হয়েছেন। মুস্তারা বিবির নাম ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আগের সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে তাঁর কাজও এখন নতুন দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে।
মুস্তারা বিবি হুমায়ুন কবীরের ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর স্বামী কুরবান আনসারি জানিয়েছেন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে দিয়েছেন। কুরবান বলেন, “আগে তৃণমূলের সঙ্গে থাকতাম, কিন্তু গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে কাজ করতে পারিনি। তাই বেরিয়ে এলাম। এখন আমার স্ত্রীর নাম ঘোষণার পরই উচ্ছ্বাস দেখছি।” তিনি আশাবাদী যে, আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখতে হবে না।
প্রার্থী হওয়ার পর মুস্তারা বিবি নিজের সিভিক ভলান্টিয়ার কাজ হারানোর বিষয়েও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “কালিয়াচক থানায় সিভিকের কাজ করতাম। প্রার্থী হওয়ার পরই বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আমার জন্য এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়, বরং সুবিধার।” তিনি জয়ের ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী, বলেন, “আমি লড়াই করার জন্য প্রস্তুত। কে সাহায্য করবে, সেটা সময়ই বলে দেবে।”
তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনায় তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। জেলা মুখপাত্র আশিস কুন্ডু বলেন, “হুমায়ুন কবীর প্রতিদিন ভিন্ন মন্তব্য করছেন। ভোটের সময় দেখলে বোঝা যাবে সত্যিই কতটা সমর্থন আছে।” অন্যদিকে মিম ও বিজেপি দলে সক্রিয়তা বাড়ছে। বিজেপির দক্ষিণ মালদহ জেলা সহ-সভাপতি তারক ঘোষ জানিয়েছেন, “হুমায়ুন কবীরের দল তৃণমূলের প্রভাবিত, আমরা লক্ষ্য রাখছি যাতে আগামী নির্বাচনে সঠিক ফল পাওয়া যায়।”
আরও পড়ুনঃ Bangladesh: ‘আইন নিজের হাতে নেওয়ার অধিকার কারও নেই’! দীপু হত্যা*কাণ্ডে সরব ইউনূস প্রশাসন, বিচারের আশ্বাসে নতুন বিতর্ক!
মালদহের এই ঘটনাচক্র নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মুস্তারা বিবির নতুন দলের প্রার্থী হওয়া, তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া এবং বিজেপির সক্রিয়তা—সব মিলিয়ে নির্বাচনী ময়দানে উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে। এখন প্রশ্ন, বৈষ্ণবনগরের ভোটাররা এই নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং নির্বাচনী ফলাফল কাকে উপকার করবে, তা সময়ই দেখাবে।





