একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর দুনিয়ায় দাঁড়িয়ে হঠাৎই যেন ফিরে দেখা হচ্ছে ইতিহাসের এক পুরনো অধ্যায়। একসময় দুর্গ রক্ষায় পরিখায় কুমির ছেড়ে দেওয়ার কথা আমরা বইয়ে পড়েছি। সেই কৌশলই কি এবার বাস্তবে ফিরতে চলেছে? সীমান্ত সুরক্ষায় নতুন চিন্তাভাবনা ঘিরে তৈরি হয়েছে জোর জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে প্রযুক্তির যুগে এমন অপ্রচলিত পদ্ধতির প্রয়োজন কেন পড়ছে?
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার, যার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে নদী, খাল ও জলাভূমি। এইসব জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে ওঠে। ফলে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও নানা অবৈধ কার্যকলাপ রুখতে গিয়ে বড় সমস্যার মুখে পড়তে হয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে। এই বাস্তবতা থেকেই নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (Border Security Force)। ‘প্রকৃতিকে ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করার ধারণাই এখন আলোচনায় উঠে এসেছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর নির্দেশনার ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। গত ২৬ মার্চ ইস্টার্ন ও নর্থ-ইস্টার্ন সেক্টরের বিভিন্ন দফতরে পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে যেসব এলাকায় ফেন্সিং করা সম্ভব নয়, বিশেষ করে নদীপথ বা পাহাড়ি ছড়ায়, সেখানে কুমির বা বিষাক্ত সাপ মোতায়েন করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এই পরিকল্পনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবুও বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ ধরনের ভাবনার উদাহরণ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও পাওয়া গেছে। একসময় ডোনাল্ড ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তে কুমির ব্যবহারের কথা বলেছিলেন, যদিও পরে সেটিকে রসিকতা হিসেবে উড়িয়ে দেন। তবে ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি শুধুই কল্পনা নয়, বরং বাস্তব সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা। প্রায় ৬,২০০ কিলোমিটার সীমান্ত পাহারায় থাকা বাহিনীর উপর বাড়তি চাপ রয়েছে। প্রায় ২.৬৫ লাখ কর্মীর একটি বড় অংশকে মাঝে মাঝেই অন্য দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়, ফলে সীমান্তে জনবল ঘাটতি তৈরি হয়।
আরও পড়ুনঃ দাম্পত্যে ফাঁক নাকি নতুন সম্পর্কের খোঁজ? নীরবে বাড়ছে মহিলাদের ‘পরকীয়া’ অ্যাপের ঝোঁক, সামনে এল চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান!
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ইতিমধ্যেই ‘ই-বর্ডার’ বা আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে। তবুও প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার সীমান্ত এখনও বেড়াহীন, যার মধ্যে ১৭৫ কিলোমিটারই নদী ও জলাভূমি এলাকা। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প কৌশল হিসেবে কুমির ও সাপ মোতায়েনের মতো পরিকল্পনা সামনে আসছে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি, তবে এটা স্পষ্ট সীমান্ত সুরক্ষায় নতুন ও কঠোর উপায় খুঁজতেই এই ভাবনা।





