Bangladesh : “একটার পর একটা চেয়ার শূন্য” খোদা বকশের পদত্যাগে কি কোণঠাসা ইউনূস সরকার বাংলাদেশে?

একাধিক সংকট, প্রশ্ন আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়েই এগোচ্ছে প্রতিবেশী বাংলাদেশ। রাস্তায় নামছে ক্ষোভ, বাড়ছে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ, আর সেই আবহেই অন্তর্বর্তী সরকারের ভিতর থেকেও ভাঙনের ইঙ্গিত মিলছে। দেশের সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—ভোটের মুখে দাঁড়িয়ে এই সরকার আদৌ স্থিতিশীল থাকতে পারবে তো? নাকি পরিস্থিতি আরও জটিল দিকে এগোচ্ছে? সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় সেই আশঙ্কাই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের জন্য অস্বস্তি বাড়িয়েছে একের পর এক পদত্যাগ। বুধবার রাতের একটি সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন এবং তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। যদিও হঠাৎ এই পদত্যাগের কারণ সরকারিভাবে স্পষ্ট করা হয়নি, তবু রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যখন দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন স্বরাষ্ট্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তির সরে যাওয়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

পুলিশের প্রাক্তন আইজিপি খোদা বকশ চৌধুরীকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে সহযোগিতার জন্য প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নির্বাহী ক্ষমতাসহ বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতার উপর ভরসা রেখেছিল ইউনূস সরকার। কিন্তু তাঁর বিদায়ে সেই পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা লাগল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ, চলতি অস্থিরতার সময়ে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকা ব্যক্তিদের উপস্থিতি সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

খোদা বকশ চৌধুরীর ইস্তফা অবশ্য বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগে শিক্ষা বিষয়ক বিশেষ দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক এম আমিনুল ইসলামও পদত্যাগ করেছিলেন। ইউনূস সরকার স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র সামলাতে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বিশেষ সহকারী নিয়োগ করেছিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক সায়েদুর রহমান। কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে দুই গুরুত্বপূর্ণ সহকারীর সরে যাওয়া সরকারের ভিত শক্ত থাকা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। বিরোধী শিবিরের মতে, এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতারই প্রতিফলন।

আরও পড়ুনঃ Humayun Kabir : হুমায়ুনের দলের প্রার্থী হতেই সিভিকের কাজ গেল তৃণমূল কর্মী মুস্তারার! রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই কি এই পদক্ষেপ?

এরই মধ্যে ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ ইউনূস সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল। সেই সময়সীমার মধ্যেই খোদা বকশ চৌধুরীর পদত্যাগ সামনে আসে। এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র আছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকারের উপর যে চাপ ক্রমেই বাড়ছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এখন দেখার, ভোটের আগে এই অন্তর্বর্তী সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে, নাকি ফাঁকা হয়ে যাওয়া চেয়ারগুলো আরও বড় সংকেত বহন করছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles