ক্যানিং থানার চত্বরে শুক্রবার রাত থেকে এক অস্বস্তিকর নীরবতা ঘিরে রেখেছিল গোটা এলাকা। প্রতিদিনের মতোই ডিউটি শেষে কোয়ার্টারে ফেরার কথা ছিল এক তরুণী হোমগার্ডের, কিন্তু সময় গড়িয়ে গেলেও তাঁর কোনও খোঁজ মিলছিল না। ফোন বন্ধ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন—পরিবারের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছিল। সেই অজানা আশঙ্কাই শনিবার ভয়াবহ বাস্তব হয়ে ধরা দেয়, যা ক্যানিং-সহ গোটা বারুইপুর পুলিশ জেলাকে নাড়িয়ে দেয়।
ঘটনাটি ক্যানিং থানার পুলিশ কোয়ার্টারের। মৃত তরুণীর নাম গুলজান পারভিন মোল্লা ওরফে রেশমি, বয়স মাত্র ২২। শুক্রবার ডিউটির পর থানার পিছনের দিকের কোয়ার্টারে যান তিনি। এরপর আর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। শনিবার সারাদিন চেষ্টা করেও ফোনে পাওয়া যায়নি তাঁকে। শেষমেশ পরিবারের সদস্যরা ক্যানিং থানায় পৌঁছন। রেশমির বোন রুকসানা খাতুন কোয়ার্টারের দরজা খুলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ভয়ঙ্কর দৃশ্য—সিলিং থেকে ওড়না জড়িয়ে ঝুলছে রেশমির নিথর দেহ।
চিৎকারে ছুটে আসেন আশপাশের লোকজন। খবর দেওয়া হয় থানায়। পুলিশ দ্রুত দেহ উদ্ধার করে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। শুরু হয় ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—এটা কি আত্মহত্যা, না কি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও অন্ধকার গল্প? ঘটনাস্থল যেহেতু থানার কোয়ার্টার, তাই শুরু থেকেই বিষয়টি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়।
রেশমির পারিবারিক পটভূমিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বছর দু’য়েক আগে পঞ্চায়েত ভোটের সময় ভাঙড়ে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় খুন হন তাঁর বাবা রশিদ মোল্লা। সেই ঘটনার পর সহানুভূতিমূলক নিয়োগে রেশমিকে হোমগার্ডের চাকরি দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের বড় মেয়ে হিসেবে সংসারের দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। সেই মেয়ের এভাবে মৃত্যু মানতে পারছে না পরিবার।
আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari : টোটো ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেফতার বিজেপি কর্মী, বাড়িতে হেনস্থার দাবি—নন্দীগ্রাম থানায় পুলিশ বনাম শুভেন্দু মুখোমুখি!
মৃতের পরিবারের তরফে এবার সরাসরি অভিযোগের আঙুল উঠেছে ক্যানিং থানার এক সাব ইন্সপেক্টরের দিকে। ক্যানিং থানার সাব ইন্সপেক্টর সায়ন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁরা। পরিবারের দাবি, রেশমির সঙ্গে ওই আধিকারিকের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার আশঙ্কা তৈরি হওয়াতেই খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মৃতার কাকা ছয়েদ মোল্লা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছে, তবে এই মৃত্যুর আসল সত্য কী—তা জানতে এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের দিকেই তাকিয়ে গোটা এলাকা।






