কলকাতা আজ আবার এক বড় রাজনৈতিক ঘটনার সাক্ষী হল। এমন এক সময়ে যখন দেশের রাজনীতি তপ্ত, ঠিক তখনই ইডি (ED) ও আইপ্যাক (I-PAC) নিয়ে নতুন বিতর্ক বেড়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে—কীভাবে এই তল্লাশি ঘটল, এবং কেন হঠাৎ কলকাতা হাইকোর্টে সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি উঠল।
ঘটনাটি শুরু হয় বৃহস্পতিবার সকালে, যখন দিল্লির আর্থিক প্রতারণা মামলায় I-PAC-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ইডি হানা দেয়। আধিকারিকরা অফিসে প্রবেশ করলে, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেখানে উপস্থিত হন। এই সময় তিনি হাতে একটি সবুজ ফাইল নিয়ে সাংবাদিকদের দেখান এবং জানান, “সব হার্ড ডিস্ক ও ফাইল আমি নিয়ে এসেছি।”
ইডির বক্তব্য, তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত ছিলেন এবং ফাইলটি পুলিশের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে। ইডি দাবি করছে, এই ঘটনায় শুধুমাত্র পুলিশের মাধ্যমে নজর রাখা সম্ভব নয়, তাই এক কেন্দ্রীয় এজেন্সি আরেকটি কেন্দ্রীয় এজেন্সির দ্বারস্থ হতে চাইছে। এ কারণে কলকাতা হাইকোর্টে সিবিআই তদন্তের আবেদন দায়ের করা হয়েছে। আবেদনপত্রে এফআইআর (FIR) করার কথা বলা হয়েছে এবং রাজীব কুমারের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃণমূলের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ এই পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, “ইডি-সিবিআই আরও যা কিছু করুক, বাংলার মানুষ তাদের যোগ্য জবাব দেবে। ছাব্বিশের ভোটের আগে এই চেষ্টা ব্যর্থ হবে।” এদিকে, ইডি যখন হাইকোর্টে মামলা করেছে, তখন পাল্টা অভিযোগও উঠেছে। এমনকি ইডি অভিযানকে কেন্দ্র করে দুটি নতুন মামলা দায়ের হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ৭৮টা ঘুমের ওষুধ কোথা থেকে পেলেন দেবলীনা? সত্যিটা সামনে আসতেই শিউরে উঠলো নেটপাড়া! কি বললেন গায়িকার দিদি?
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট যে, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আইনি লড়াই একসঙ্গে চলছে। আইপ্যাক তল্লাশি শুধু আর্থিক বা প্রশাসনিক ইস্যু নয়, এটি রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রকেও প্রভাবিত করতে চলেছে। সাধারণ মানুষ এখন অপেক্ষা করছে, এই মামলা ও তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে, এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে কী প্রভাব ফেলবে।






