I PAC raid : “ওঁর মাধ্যম দিয়ে টাকা যায় শুভেন্দুর কাছে”—মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক মন্তব্যে আইনি পথে বিরোধী দলনেতা!

রাজনৈতিক উত্তেজনা যে কত দ্রুত ব্যক্তিগত লড়াইয়ে রূপ নিতে পারে, তার আরেকটি উদাহরণ সামনে এল রাজ্য রাজনীতিতে। বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার—টানা দু’দিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। কেন্দ্রীয় সংস্থা, দুর্নীতি তদন্ত এবং রাজনৈতিক কৌশল—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ ঘনাচ্ছে। এই আবহেই হঠাৎ করেই আইনি পথে হাঁটার ঘোষণা করে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনলেন বিরোধী দলনেতা।

বিষয়টির সূত্রপাত হয় কয়লা কেলেঙ্কারি তদন্ত ঘিরে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক জনসভা ও বক্তব্যে সরাসরি অভিযোগ করেন যে এই দুর্নীতির টাকার যোগ রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। শুধু তাই নয়, অভিযোগের ভাষা ছিল তীব্র ও ব্যক্তিগত আক্রমণে ভরা। সেই বক্তব্যেই ক্ষুব্ধ হয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রীকে আইনি চিঠি পাঠালেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দুর আইনজীবী সূর্যনীল দাসের মাধ্যমে পাঠানো ওই চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর করা অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ দিতে হবে। চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যদি সেই প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন মুখ্যমন্ত্রী, তবে মানহানির অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এমনকি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের ফলাফল টেনেও আনা হয়েছে এই চিঠিতে।

এই গোটা বিতর্কের পেছনে রয়েছে আইপ্যাক সংক্রান্ত ইডি তল্লাশি। ইন্ডিয়ান প্যাক কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেডের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজে সেখানে পৌঁছে যাওয়াকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। ইডির দাবি অনুযায়ী, কয়লা কেলেঙ্কারি তদন্তে হাওয়ালা লেনদেনের সূত্র সামনে আসে, যেখানে প্রায় ১০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ। অভিযুক্তদের বয়ানে প্রতীক জৈনের নাম উঠে আসায় এই তল্লাশি চালানো হয় বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

আরও পড়ুনঃ ED on Calcutta High Court: আইপ্যাক তল্লাশি কাণ্ডে চাঞ্চল্য ! সিবিআই তদন্ত চাইল ইডি, যুক্ত মুখ্যমন্ত্রীর নামও!

এই তল্লাশি প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারীর নাম নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। এমনকি শুভেন্দুকে ‘দত্তক সন্তান’ বলেও কটাক্ষ করা হয়, যা অপমানজনক বলে দাবি শুভেন্দুর আইনজীবীর। সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই এবার সরাসরি প্রমাণ চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানির চিঠি পাঠানো হল। রাজনীতির এই আইনি সংঘাত কোন পথে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles