“জনতার মাঝেই নিরাপত্তা!” ব্লা*স্ট হুমকির মাঝেও আত্মবিশ্বাসী রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস!

কলকাতার ব্যস্ত রাস্তাঘাট, মানুষের কোলাহল আর চিরচেনা গন্ধ—এই শহর শুধু ইট-পাথরের নয়, আবেগেরও। আর সেই আবেগের মাঝেই হঠাৎ এক মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল। রাজভবনের নিরাপত্তা বলয় ছেড়ে রাজ্যপাল যখন সাধারণ মানুষের ভিড়ে এসে দাঁড়ান, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—তিনি কি আদৌ নিরাপদ? কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যপালের কণ্ঠে শোনা গেল আত্মবিশ্বাসী এক বার্তা, যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

সম্প্রতি রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস কলকাতার ঐতিহাসিক ডেকার্স লেন পরিদর্শনে যান। সেখানেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। দোকানিদের সঙ্গে কথা বলেন, পথচলতি মানুষের অভিবাদন গ্রহণ করেন। সেই মুহূর্তেই নিজের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রাজ্যপাল স্পষ্ট জানান, তিনি এখানে কোনও রকম ভয় অনুভব করছেন না। বরং তাঁর বক্তব্য, জনগণের মাঝেই তিনি সবচেয়ে নিরাপদ। তাঁর মতে, মানুষের ভিড়, মানুষের ভালোবাসাই তাঁর প্রকৃত নিরাপত্তা।

এই সফরের মধ্যেই সামনে আসে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, সম্প্রতি রাজ্যপাল একটি ইমেইল পান, যেখানে তাঁকে ‘ব্লাস্ট’ করার হুমকি দেওয়া হয়। এমন গুরুতর হুমকির খবর সামনে এলেও রাজ্যপালের বক্তব্যে ছিল না কোনও আতঙ্ক বা উদ্বেগের ছাপ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাস্তায়, মানুষের সঙ্গে থাকাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার চেয়েও জনগণের আস্থা ও সমর্থনকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন বলেই জানান রাজ্যপাল।

ডেকার্স লেন সফরের সময় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয় রাজ্যপালকে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলার শুনানির আবেদন জানিয়েছে। এই প্রসঙ্গে রাজ্যপালের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত সংযত। তিনি জানান, বিষয়টি এখন আদালতের অধীনে রয়েছে এবং একজন সাংবিধানিক পদাধিকারী হিসেবে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না। আদালত যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই চূড়ান্ত—এই অবস্থানেই অনড় থাকেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ কোর্টরুমে তৃণমূলের রাজনৈতিক চাপের মধ্যে বিশৃঙ্খলা, রাগে এজলাস ছাড়লেন বিচারপতি! আইপ্যাক মামলায় পিছিয়ে গেল শুনানি!

সব মিলিয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বক্তব্যে যে বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, তা হল জনগণের উপর তাঁর গভীর আস্থা। হুমকি, রাজনৈতিক চাপ বা প্রশাসনিক বিতর্ক—কিছুই যেন তাঁর মনোবল নড়াতে পারেনি। বরং বারবার তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, ক্ষমতার আসল উৎস জনগণই। রাজনীতির উত্তাল পরিবেশে এই বার্তা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে, তবে আপাতত রাজ্যপালের এই মন্তব্য নিঃসন্দেহে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles