আবার প্রকাশ্যে এল কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার দ্বন্দ্ব। করোনা আবহেও কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়ছে না। এবার বন্দে ভারত মিশন নিয়ে শুরু হয়েছে কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্ব। কেন কলকাতা অবধি প্লেন চালানো হচ্ছে না, সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূল নেতা তথা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টাপাধ্যায়। এর জবাবে বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে যে অনুমতি মিললেই কলকাতায় প্লেন পাঠানো হবে! কার্যত রাজ্যকেই দায়ী করেছে বিদেশমন্ত্রক।
বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব টুইটারে পার্থবাবুর প্রশ্নের জবাবে বলেন যে পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের দেশে ফেরানোর জন্য বিমানের ব্যবস্থা করা যেতেই পারে। কিন্তু রাজ্যকে আগে নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের কোয়ারেন্টাইন করার ব্যবস্থা আছে।
Will gladly facilitate flights to Kolkata if state government will confirm arrangements to receive and quarantine. Will also help in return of WB residents through land borders with neighbors. We hope to receive an early response on the matter. (2/2)@MoCA_GoI @HomeSecretaryWB
— Randhir Jaiswal (@MEAIndia) May 14, 2020
পার্থবাবু প্রশ্ন করেছিলেন কেন বন্দে ভারতের দ্বিতীয় দফাতেও কলকাতায় কোনও ফ্লাইট আসছে না। ২১টি দেশ থেকে ৩২ হাজার ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনা হবে দ্বিতীয় দফায়। ১২টি রাজ্যে মোট ১৪৯টি প্লেন চালাবে এয়ার ইন্ডিয়া। কিন্তু এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ নেই।
পার্থবাবু একে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা বলে দাবি করে বলেন যে জর্জিয়া থেকে গুজরাত যাওয়ার লোক আছে, বিহার থেকে কিরগিজস্তান ফিরছে মানুষ কিন্তু এটা বিশ্বাস করতে অবাক লাগছে যে কেউ কলকাতায় ফিরতে চাইছেন না!
সচারচর ঘরোয়া রাজনীতি নিয়ে কোনও মন্তব্য করে না বিদেশমন্ত্রক। কিন্তু এখানে যেহেতু তাদের বিরুদ্ধেই পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন যে তারা রাজ্যদের মধ্যে ভেদাভেদ করেন না। পশ্চিমবঙ্গ সহ সমস্ত রাজ্যের নাগরিকদের জন্যেই বন্দে ভারত মিশন। রাজ্যের মোট ৩৭০০ মানুষ ফিরে আসার জন্য রেজিস্টার করেছে বলে তিনি জানান। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে কোয়ারেন্টাইন করার কথা জানাতে হবে। সরকার নাগরিকদের রিসিভ করে কোয়ারেন্টাইন করার কথা জানালেই রাজ্যে ফ্লাইট পাঠানো হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশেও যে পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকরা আটকে পড়েছেন তাদের ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন বিদেশমন্ত্রক। এই টুইটের এখনো কোনও উত্তর আসেনি রাজ্যের তরফ থেকে।
পশ্চিমবঙ্গ শ্রমিক ট্রেন আসার অনুমতি দিচ্ছে না, এই নিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্ব চলছে। অমিত শাহ মমতাকে এই প্রসঙ্গে চিঠি লেখেন। বৃহস্পতিবার পীযূষ গোয়েল বলেন যে মাসে ১০৫টি নয়, দিনে ১০৫টি ট্রেন চালানো উচিত। কিন্তু তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের শ্রমিকদের দায় মমতা এড়াচ্ছেন।
এর আগে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যদল এসে রাজ্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। তার উপর বাংলার সঙ্গে বঞ্চনা করা হচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে নিজের রাগ উগড়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে করোনা প্রতিরোধে একতা নয়, বিরোধিতার সুরই বারবার শোনা যাচ্ছে দু’পক্ষের মধ্যে।





