শহর কলকাতার ব্যস্ত গলিপথে গড়ে ওঠা একের পর এক নির্মীয়মান বহুতল আজ আর শুধু উন্নয়নের প্রতীক নয়, অনেকের কাছেই তা হয়ে উঠছে ভয়ংকর অনিশ্চয়তার নাম। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠলেও, বাস্তবে তার প্রতিফলন খুব একটা চোখে পড়ে না। বুধবার এমনই এক নির্মীয়মান বহুতল ঘিরে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনা গোটা এলাকাকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে এন্টালি থানার অন্তর্গত ৪/৫১ কনভেন্ট লেন এলাকায়। বুধবার বিকেলের দিকে ওই নির্মীয়মান আবাসনের ছাদে কাপড় আনতে যান পরিবারের এক সদস্য। সেই সময় পরিবারের সঙ্গেই ছিল তিন বছরের এক শিশু। কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটিকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। প্রথমে পরিবারের লোকজন আশপাশের ঘর, সিঁড়ি, ছাদ—সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়েও শিশুটির কোনও খোঁজ না মেলায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
শেষ পর্যন্ত সন্দেহের বশেই নজর যায় বহুতলের ভিতরে থাকা লিফটের জন্য তৈরি করা গর্তটির দিকে। পরিবারের সদস্যরা সেখানে আলো ফেলে দেখেন, অচৈতন্য অবস্থায় গর্তের ভিতরে পড়ে রয়েছে শিশুটি। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে এনআরএস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
তবে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও বাড়ছে সমানতালে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মীয়মান ওই বহুতলে কোনও নিরাপত্তারক্ষী ছিল না। সবচেয়ে বড় অভিযোগ, লিফটের গর্তটি সম্পূর্ণ খোলা অবস্থায় ছিল, সেখানে কোনও ঘেরাটোপ বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসীর দাবি, সামান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেই এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। তাঁদের মতে, অধিক মুনাফার আশায় প্রোমোটারেরা ন্যূনতম সুরক্ষাব্যবস্থাও মানছেন না।
আরও পড়ুনঃ SIR: ভোটার তালিকা বিতর্কে কড়া কমিশন, মুখ্যসচিবকে চিঠি—কেন কার্যকর হয়নি চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে নির্দেশ?
পরিবারের অভিযোগ আরও গুরুতর। সন্তানের মৃত্যুর বিচার চাইতে গিয়ে উল্টে হুমকির মুখে পড়েছেন শিশুটির বাবা। স্থানীয়দের বক্তব্য, থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে নানা রকম ভয় দেখানো হয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, শিশুটির মাকে দোষারোপ করেও চাপ সৃষ্টি করা হয়। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা যাচ্ছে। তিন বছরের শিশুর এই মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও প্রশ্ন তুলে দিল—শহরের নির্মীয়মান বহুতলগুলো আদৌ কতটা নিরাপদ? আর সেই নিরাপত্তার দায়ভারই বা কার?





