নির্বাচনের আগে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে ফের অস্বস্তির বাতাবরণ। একদিকে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কড়া অবস্থান—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি মুখ্যসচিবের কাছে পাঠানো একটি চিঠি প্রশাসনিক স্তরে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, আর সেই সময়ের ঘড়ি দ্রুত এগোচ্ছে।
রাজ্যের ভোটার তালিকায় বেআইনি ভাবে নাম তোলার অভিযোগে আগেই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। বুধবার মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে পাঠানো চিঠিতে কমিশন জানতে চেয়েছে—এই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ঠিক কী পদক্ষেপ করা হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে, অর্থাৎ ২৪ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
শুধু রিপোর্ট নয়, কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে—যে অফিসার বা দফতর কমিশনের নির্দেশ মানেনি, তাদের কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যা চাইতে হবে। কেন নিয়ম মানা হয়নি, তার কারণ জানাতে হবে। পাশাপাশি, ওই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে হওয়া সম্পূর্ণ তদন্তের নথি জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চার্জশিট, অভিযুক্তদের জবাব, অনুসন্ধান রিপোর্ট, শাস্তির আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট ফাইল নোটিং। এই সব কাগজপত্র খতিয়ে দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।
এই ঘটনার সূত্রপাত বেআইনি ভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগ ঘিরে। পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও ও এইআরও-র বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। অভিযুক্ত চার আধিকারিক হলেন তথাগত মণ্ডল, দেবোত্তম দত্তচৌধুরী, বিপ্লব সরকার এবং সুদীপ্ত দাস। তাঁদের সাসপেন্ড করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে দু’বার চিঠি পাঠানো হলেও সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। পরে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হলেও প্রায় ২০ দিনেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
আরও পড়ুনঃ Dilip Ghosh : “কে কাকে বিয়ে করবে, সেটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়”—হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ!
এই পরিস্থিতিতে নবান্ন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের পরামর্শ নিয়ে সিইও দফতরে চিঠি পাঠায়। সেখানে দাবি করা হয়, অভিযুক্তদের অপরাধ এফআইআর করার মতো গুরুতর নয় এবং ‘লঘু পাপে গুরু দণ্ড’ দেওয়া উচিত হবে না। তবে সেই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি নির্বাচন কমিশন। বরং আরও কড়া অবস্থান নিয়ে ফের চিঠি পাঠানো হয়েছে। চার আধিকারিক বর্তমানে বিভিন্ন দফতরে কর্মরত ডব্লিউবিসিএস অফিসার। পাশাপাশি, ডেটা এন্ট্রির কাজে যুক্ত সুরজিৎ হালদারের বিরুদ্ধেও এফআইআর নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। এখন সব নজর আগামী ৭২ ঘণ্টার দিকে—এই সময়ের মধ্যেই রাজ্য কী পদক্ষেপ করে, তার উপরই নির্ভর করছে পরবর্তী প্রশাসনিক সমীকরণ।





