Naushad Siddiqui : বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ? নৌশাদের জোট প্রস্তাবে সমর্থন সুজন-অধীরের, পাল্টা তৃণমূলের তোপ!

বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, রাজ্য রাজনীতির অন্দরে ততই জোরাল হচ্ছে হিসেবনিকেশ। শাসক বনাম বিরোধী দ্বন্দ্বের বাইরে গিয়ে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে। একাধিক শিবিরের অন্দরমহলে শুরু হয়েছে আলোচনা, চলছে রণকৌশল সাজানোর প্রস্তুতি। ঠিক এই আবহেই এমন এক বক্তব্য উঠে এল, যা ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এল বিরোধী ঐক্যের প্রশ্ন।

এই প্রসঙ্গেই জোটের প্রস্তাব সামনে আনলেন আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একসঙ্গে নামার ডাক দেন তিনি। নৌশাদের বক্তব্য, বামফ্রন্ট, কংগ্রেস-সহ রাজ্যের অন্যান্য সেকুলার শক্তির সঙ্গে আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তাঁর কথায়, ভোটের আগে রাজ্যস্তরে নয়, বুথ স্তর থেকেই ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই আগামী দিনগুলোতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে এবং জানুয়ারির মধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা হবে বলে জানান তিনি।

নৌশাদের এই মন্তব্যে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বাম ও কংগ্রেস শিবিরে। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি ও তৃণমূলের বাইরে থাকা শক্তিগুলোর মধ্যে আলোচনা হওয়াই স্বাভাবিক। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গকে রক্ষা করতে হলে এবং আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে মন্দির-মসজিদ কেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে এসে সেকুলার শক্তিগুলিকে একজোট হতেই হবে। বিজেপি ও তৃণমূলকে পরাস্ত করতে হলে এই ঐক্য অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

একই সুর শোনা যায় প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর কথাতেও। তিনি জানান, এই প্রস্তাব অসঙ্গত নয় এবং যুক্তিযুক্ত বলেই মনে করেন। অধীরের বক্তব্য, বাংলার সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি এক হলে শাসক দলের বিরুদ্ধে বড় রাজনৈতিক ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। যদিও অতীতের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তবুও বর্তমান আইএসএফ নেতৃত্বের বক্তব্য তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য বলেই জানান কংগ্রেস নেতা।

আরও পড়ুনঃ ছাদে কাপড় আনতে গিয়ে নিখোঁজ, লিফটের গর্তে মিলল দেহ—কলকাতায় নির্মীয়মান বহুতলে মর্মান্তিক তিন বছরের শিশুমৃত্যু!

তবে এই জোট-আহ্বান নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ দাবি করেন, এই সমস্ত শক্তি বিজেপিরই বিভিন্ন ‘টিম’। তাঁর অভিযোগ, অতীতে বাম ও কংগ্রেসকে দিয়ে খেলেও লাভ হয়নি, এবার ধর্মের মুখোশ পরে নতুনভাবে বিভ্রান্তির চেষ্টা চলছে। সংখ্যালঘুদের সতর্ক থাকার বার্তাও দেন তিনি। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ কতটা বাস্তব রূপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles