বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে আবারও নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহের বকেয়া নিয়ে সমস্যা চলছিল, এবার ভারতের আদানি গোষ্ঠী সরাসরি বাংলাদেশকে চিঠি দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের বিল পরিশোধ না হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রমে বড় ধাক্কা পড়তে পারে। বিষয়টি দেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও সাধারণ জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রথম আলোসহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আদানি পাওয়ার লিমিটেডসের ভাইস প্রেসিডেন্ট অবিনাশ অনুরাগ গত ২৯ জানুয়ারি পিডিবিকে চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী তাদের পাওনা মোট ৫৭ কোটি ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩০ কোটি ডলারের বকেয়া নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। কিন্তু বাকি বকেয়া ১১ কোটি ২৭ লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা) এখনো মেটানো হয়নি। সংস্থার দাবি, এই বকেয়া না দিলে কয়লা আমদানি করতে সমস্যা হচ্ছে এবং উৎপাদন সচল রাখা কঠিন হচ্ছে।
পিডিবি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানিয়েছেন, রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ কমে যাওয়ায় বকেয়া শোধ করার কাজ কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। তবে মার্চ থেকে এই পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে আদানি সংস্থার চুক্তি হয়, যার মাধ্যমে ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা থেকে ২৫ বছরের জন্য ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইউনূস সরকারের সময়ে সরবরাহ হ্রাস করার ফলে বকেয়া আরও বৃদ্ধি পায়।
হাসিনার সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ চুক্তিগুলি নিয়েও নানা ধরনের প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সেই সময় গঠিত একটি সরকারি কমিটি, যা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে কাজ করেছিল, তাদের রিপোর্টে আদানি চুক্তিকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের মধ্যে ‘নিকৃষ্টতম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কমিটির মতে, প্রতি বছর অতিরিক্ত ৫–৬ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুনঃ SIR: BLO-দের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন! পঞ্চায়েত ভবনে SIR শুনানি চায় না নির্বাচন কমিশন, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা!
অন্যদিকে আদানি গোষ্ঠী দাবি করেছে, বাংলাদেশে এই রিপোর্টের কপি তাদের কাছে পৌঁছায়নি এবং পিডিবি-র পক্ষ থেকেও তাদের সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ করা হয়নি। তবুও তারা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেনি। এখন বিষয়টি আদালতের নজরে রয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বকেয়া দ্রুত শোধ না হলে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সঙ্কটের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।






