SIR: BLO-দের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন! পঞ্চায়েত ভবনে SIR শুনানি চায় না নির্বাচন কমিশন, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা!

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে চলতি সময়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠে আসছে। ভোটের আগে এই প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে প্রশাসনিক মহল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক স্তর পর্যন্ত। বিশেষ করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনাগুলি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এরই মধ্যে এসআইআর শুনানি কোথায় এবং কীভাবে হবে, তা নিয়ে জটিলতা আরও গভীর হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনের মামলায় কমিশনের তরফে পাল্টা হলফনামা জমা দিয়ে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পঞ্চায়েত ভবন স্তরে এসআইআর শুনানি চালানোর মতো নিরাপদ পরিবেশ রাজ্যে নেই। কমিশনের দাবি, সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনাগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে স্থানীয় স্তরে প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনা করা ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

হলফনামায় একাধিক উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। ইটাহার, ফারাক্কা, চাকুলিয়ার মতো এলাকায় পঞ্চায়েত স্তরে ঘটে যাওয়া হিংসাত্মক ঘটনার উল্লেখ করে কমিশন জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে শুনানি হলে মাইক্রো অবসার্ভার, বিএলও এবং কমিশনের আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রেই আধিকারিকরা নিজেদের জীবন নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন। ফরাক্কা ও চাকুলিয়ায় বিডিও অফিসে আগুন লাগানোর মতো ঘটনাও হলফনামায় তুলে ধরা হয়েছে, যা গোটা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, পঞ্চায়েত ভবনেই এসআইআর শুনানি করতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের আবেদনের ভিত্তিতেই এই নির্দেশ জারি হয়েছিল। তবে বর্তমান হিংসার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সেই নির্দেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার ছিল এসআইআর শুনানির শেষ দিন, আর সেই দিনই এই হলফনামা জমা পড়ে। কমিশনের মতে, বাংলার ভোটারদের স্বার্থ রক্ষা করতে গেলে সময়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ Mohan Bhagwat : বিয়ে কি শুধু সম্মতির বিষয়? ‘তিন সন্তান’ তত্ত্বে সমাজকে নতুন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালেন মোহন ভাগবত!

এদিকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, এসআইআর শুনানির জন্য তলব করা অবৈধ ভোটারের সংখ্যা ছিল মোট ৩১,৬৮,৪২৬। বারবার নোটিস পাঠানো সত্ত্বেও ৫০,০০০-এর কিছু বেশি ভোটার শুনানিতে হাজির হননি, যা মোট সংখ্যার ১.৫৭ শতাংশ। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই ভোটারদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। বর্তমানে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি সংক্রান্ত মামলাগুলির শুনানি চলছে। শেষ পর্যন্ত কতজনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles