কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর ভবিষ্যতের গল্প নয়, বরং বর্তমানের বাস্তবতা। স্মার্টফোন থেকে শুরু করে চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা কৃষি—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এআই-এর ব্যবহার বাড়ছে দ্রুত গতিতে। এই পরিবর্তনের মাঝেই প্রশ্ন উঠছে, প্রযুক্তির এই দৌড়ে মানুষ কোথায় দাঁড়িয়ে? প্রযুক্তি কি মানুষের জন্য, নাকি মানুষই ধীরে ধীরে প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে? ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
দিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করে বলেন, এআই-কে অবশ্যই মানব-কেন্দ্রিক হতে হবে। তাঁর বক্তব্য, ভবিষ্যতে এআই কী করবে সেটা বড় প্রশ্ন নয়; বরং আমরা আজ এটিকে কোন পথে পরিচালিত করছি, সেটাই আসল বিষয়। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এক বিশাল রূপান্তরকারী শক্তি—সঠিক দিশা পেলে উন্নয়নের হাতিয়ার, আর ভুল পথে গেলে বিপদের কারণও হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এআই-এর জন্য একটি ‘মানব ফ্রেমওয়ার্ক’ প্রয়োজন। এই দৃষ্টিভঙ্গির কেন্দ্রে থাকবে নৈতিকতা, দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যাদের ডেটা, তাদেরই সেই ডেটার উপর অধিকার থাকা উচিত। তবে তা যেন একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে পরিণত না হয়। আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যে থেকেই প্রযুক্তির বিকাশ ঘটাতে হবে। তিনি ‘সর্বজন সুখায়, সর্বজন হিতায়’ মন্ত্রের কথা উল্লেখ করে জানান, এআই-কে সবার কল্যাণের জন্য গণতান্ত্রিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জিপিএস আমাদের পথ দেখায় ঠিকই, কিন্তু কোন দিকে যাব তা নির্ধারণ করি আমরা নিজেরাই। একইভাবে এআই-ও একটি শক্তিশালী মাধ্যম, তবে তার চূড়ান্ত দিশা ঠিক করবে মানবসমাজ। ভবিষ্যতে মানব ও এআই একসঙ্গে কাজ করবে—এমন সম্ভাবনার কথাও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এআই মানুষের কাজকে আরও দক্ষ ও স্মার্ট করে তুলবে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে এবং উদ্ভাবনের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
আরও পড়ুনঃ Sayan Banerjee CPIM: ‘আমাকেও ফোন করা হয়েছিল!’ প্রতীক উর জল্পনার মাঝেই বিস্ফোরক দাবি সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের— ভোটের আগে কি ভাঙানোর চেষ্টা সিপিআইএমে?
কিছু দেশ ও সংস্থা যেখানে ডেটাকে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখে, সেখানে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা বলেই জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, প্রযুক্তি ভাগ করে নিলেই বিশ্ব উপকৃত হবে। ২১ শতকের এআই-ভিত্তিক বিশ্বে ভারতের এই মানবকেন্দ্রিক ভাবনা মানবকল্যাণের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে—এমনই আশা প্রকাশ করেন তিনি। প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের সময়ে তাই তাঁর বার্তা স্পষ্ট: এআই হোক মানুষের ক্ষমতায়নের হাতিয়ার, নিয়ন্ত্রণের নয়।





