Mamata Banerjee on Mukul Roy : ‘আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী’—মুকুল রায়ের প্রয়াণে আবেগঘন বার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের!

বাংলার রাজনৈতিক পরিসরে হঠাৎই নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতা এবং নিভৃত জীবনের পর এক অভিজ্ঞ নেতার প্রস্থান যেন অনেক পুরনো অধ্যায়ের দরজা বন্ধ করে দিল। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও তাঁর সংগঠক সত্তা ও কৌশলী নেতৃত্বের কথা বহুবার আলোচিত হয়েছে নানা মহলে। এই প্রেক্ষাপটেই উঠে এসেছে একাধিক শোকবার্তা, যা নতুন করে স্মরণ করাচ্ছে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলাকে।

রবিবার গভীর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুকুল রায়। দীর্ঘদিন কোমায় থাকার পর তাঁর জীবনাবসান হয় কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে। এই খবরে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেন, “প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের সহসা প্রয়াণের সংবাদে বিচলিত ও মর্মাহত বোধ করছি। তিনি আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী এবং বহু সংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজনৈতিক পথ আলাদা হলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের সেতু অটুট ছিল।

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মুকুল রায়। সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলালেও আবার দলে প্রত্যাবর্তন করেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, বাংলার রাজনীতিতে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ভোলার নয় এবং দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক মহল তাঁর অভাব অনুভব করবে।

শুধু মুখ্যমন্ত্রীই নন, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিও শোকবার্তা দিয়েছেন। তিনি লেখেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি যুগের অবসান ঘটল। দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বিস্তারে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। রাজনৈতিক অন্দরে বিভিন্ন দলের নেতারাও সমবেদনা জানিয়েছেন, যা প্রমাণ করে তাঁর প্রভাব কতটা বিস্তৃত ছিল।

আরও পড়ুনঃ Mukul Roy: মুকুল রায়ের প্রয়া*ণে বঙ্গ রাজনীতিতে এক যুগের অবসান!

অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে তাঁর দেহ নিয়ে যাওয়া হবে কাঁচরাপাড়ার বাসভবনে। বাবার প্রয়াণে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শুভ্রাংশু রায়ও। এই কঠিন সময়ে তাঁর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মন শক্ত করো, আমরা তোমার সঙ্গে আছি।” রাজনৈতিক জীবনের নানা উত্থান-পতনের সাক্ষী এই অভিজ্ঞ নেতার প্রয়াণে যেন এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হল, যার প্রভাব দীর্ঘদিন অনুভূত হবে বাংলার রাজনৈতিক মঞ্চে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles