Mukul Roy: মুকুল রায়ের প্রয়া*ণে বঙ্গ রাজনীতিতে এক যুগের অবসান!

বঙ্গ রাজনীতির এক দীর্ঘ এবং গহন অধ্যায় আজ শেষ হয়েছে। বর্ষীয়ান নেতা মুকুল রায়ের প্রয়াণে রাজ্য রাজনীতির মহলে গভীর শোক নেমে এসেছে। রাজনৈতিক দলগুলি এবং সাধারণ মানুষ সকলেই এই শূন্যতার অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। মুকুল রায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা কেবল বাংলার নয়, দেশীয় রাজনীতিতেও রেখেছে বিশেষ ছাপ।

মুকুল রায়ের মৃত্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “বঙ্গ রাজনীতিতে একটা যুগের অবসান।” এছাড়াও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং মুকুলপুত্র শুভ্রাংশুকে ফোন করে মানসিক সমর্থন দিয়েছেন। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও এক্স হ্যান্ডেলে শোক প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক মহলে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধার ঢেউ লক্ষ্য করা গেছে, এবং তাঁর বাড়ির আশেপাশে ভিড় জমিয়েছে অনুগামীরা।

মুকুল রায়ের রাজনীতি শুরু হয়েছিল কংগ্রেসের ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময় কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। এরপর তিনি দলের অভিভাবকীয় ভূমিকায় থেকে সাংগঠনিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের সম্প্রসারণে তাঁর অবদান নজরকাড়া ছিল।

উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচড়াপাড়া থেকে শুরু করে দিল্লির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে মুকুল রায়ের প্রভাব অনুভূত হয়। তিনি রেলমন্ত্রী এবং বিধায়ক পদও সামলেছেন। তাঁর নেতৃত্বে তৃণমূল কেবল বাংলায় নয়, ত্রিপুরা, অসম ও উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতেও দলকে শক্তিশালী করেছে। যদিও ২০১৭ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন, ২০২১ সালে আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন। তবে শেষের দিকে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে বেশি চোখে পড়েননি।

আরও পড়ুনঃ Narendra Modi : “তোমরা এমনিতেই ন*গ্ন”—AI গ্লোবাল সামিট বিতর্কে কংগ্রেসকে সরাসরি আক্রমণ মোদির!

মুকুল রায়ের জীবন কেবল একটি রাজনৈতিক কাহিনী নয়, বরং সংগঠনের জন্য তাঁর অবদানও স্মরণীয়। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে দলের সঙ্গে থাকার জন্য তিনি এক অবিচল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করেছেন। মৃত্যুর পরও রাজনৈতিক মহলে এবং সাধারণ মানুষের মনে তাঁর স্থান অটুট থাকবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যান্য নেতারা নিশ্চিত করেছেন, এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে থাকবেন। বঙ্গ রাজনীতির এই যুগান্তকারী ব্যক্তিত্বের স্মৃতিচারণা সব সময় মনে থাকবে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles