ভারতের মাটিতে বিদেশিদের গ্রেফতার নতুন ঘটনা নয়, কিন্তু কখনও কখনও এমন কিছু তথ্য সামনে আসে যা গোটা ঘটনাকেই অন্য মাত্রা দেয়। সম্প্রতি ধৃত কয়েকজন বিদেশিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তেমনই এক জটিল পরিস্থিতি। প্রথমে সাধারণ আইন ভাঙার অভিযোগ মনে হলেও, ধীরে ধীরে সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর দাবি, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মায়ানমারের সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় ভারতবিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগেই ধরা হয় মোট ৭ জন বিদেশিকে। এদের মধ্যে ৬ জনই ইউক্রেনের নাগরিক। অভিযোগ, তারা মিজোরাম হয়ে মায়ানমারে গিয়ে জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিল এবং সেখানে প্রশিক্ষণ দিতেও জড়িত ছিল। যদিও এই তথ্যের সবটাই এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
এই ঘটনার মধ্যেই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে এক আইরিশ সাংবাদিকের দাবিকে ঘিরে। তাঁর বক্তব্য, ধৃতদের মধ্যে মারিয়ান স্টেফানকিভ নামে এক ব্যক্তি ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা GUR-এর সঙ্গে যুক্ত। শুধু তাই নয়, তিনি আরও দাবি করেন, ওই ব্যক্তি ‘রাইট সেক্টর’ নামের একটি বিতর্কিত সংগঠনের সঙ্গেও সম্পর্কিত। এই অভিযোগের সত্যতা এখনও যাচাই করা হয়নি, তবে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরা হয়েছে। দিল্লিতে অবস্থিত ইউক্রেনের দূতাবাস দাবি করেছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যকলাপের কোনও প্রমাণ নেই। তাঁদের মতে, ভারতে কিছু সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ হলেও সেগুলি স্পষ্টভাবে চিহ্নিত না থাকায় ভুলবশত সেখানে ঢুকে পড়তে পারেন বিদেশিরা। তবে এই যুক্তি নিয়েই উঠছে প্রশ্ন—ভুল করে কি আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরোনো সম্ভব?
আরও পড়ুনঃ I-PAC case : চার সপ্তাহ পেরিয়েও প্রস্তুত নয় রাজ্য! ‘অত্যন্ত আনইউজুয়াল’ মন্তব্যে তোপ কেন্দ্রের—আইপ্যাক তল্লাশি ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে চাপ বাড়ছে শাসক দলের!
এই মামলায় ইতিমধ্যেই ইউএপিএ-র ১৮ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি বেআইনি অনুপ্রবেশ, অস্ত্র রাখা এবং ড্রোন প্রশিক্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। জানা গিয়েছে, লখনউ ও দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ধৃতদের আটক করে পরে এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ইউরোপ থেকে ড্রোন এনে মিজোরামে ব্যবহার করা হচ্ছিল। গোটা ঘটনায় এখন নজর গোয়েন্দাদের—এটি কি নিছক ভুল, নাকি বড় কোনও ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।






