I-PAC case : চার সপ্তাহ পেরিয়েও প্রস্তুত নয় রাজ্য! ‘অত্যন্ত আনইউজুয়াল’ মন্তব্যে তোপ কেন্দ্রের—আইপ্যাক তল্লাশি ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে চাপ বাড়ছে শাসক দলের!

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল আইপ্যাক মামলা। নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই প্রশাসনিক পদক্ষেপ, তদন্ত এবং আইনি লড়াই—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে, যা রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাতকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

বুধবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় ফের সময় চায় রাজ্য। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে কপিল সিব্বল অতিরিক্ত সময়ের আবেদন জানান। তবে এতে আপত্তি তোলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তাঁর বক্তব্য, “এভাবে সময় চাওয়া মানে কার্যত প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা।” আদালতও মনে করিয়ে দেয়, ইতিমধ্যেই চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।

শুনানির সময় সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে সলিসিটর জেনারেলের মন্তব্য। তাঁর অভিযোগ, তদন্ত চলাকালীন একজন মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং হস্তক্ষেপ “অত্যন্ত অস্বাভাবিক”। এমনকি তিনি দাবি করেন, এটি একটি গুরুতর বিষয়, যা তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আদালতও সময় নষ্টের প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে।

এদিকে রাজ্যের পক্ষ থেকে মামলার গ্রহণযোগ্যতাকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়। আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান যুক্তি দেন, ইডি কোনও স্বতন্ত্র জুরিস্টিক সত্তা নয়, ফলে সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে তারা সরাসরি আবেদন করতে পারে না। তাঁর মতে, মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্নে কেবল ব্যক্তি বা স্বীকৃত সত্তাই আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। এই যুক্তি আদালতের সামনে নতুন আইনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘আমার মাতৃত্বের সত্ত্বাকে সম্মান দিয়েছে, এই বয়সে এসে দেরি করতে চাইনি’ ব্যবসার সঙ্গীই হলেন জীবনসঙ্গী! ৩৬-এ নতুন শুরু সুস্মিতা রায়ের, নিউটাউনে সাজালেন স্বপ্নের সংসার!

পুরো বিতর্কের সূত্রপাত বছরের শুরুতে, যখন কলকাতায় আইপ্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি। অভিযোগ ওঠে, সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে তদন্তে বাধা দেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি সরিয়ে নেওয়া হয়। যদিও রাজ্যের দাবি, নির্বাচনকে সামনে রেখে সংবেদনশীল রাজনৈতিক তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল। এখন এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর