চলছে পবিত্র রমজান মাস। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে এক পবিত্র উৎসবের মাস। সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় সপরিবারে ইফতার। কিন্তু এই বছরে যেন সব কিছুই একটু আলাদা। দেশব্যাপী করোনার জেরে বন্ধ হয়েছে কর্মজীবন। আর তার জেরে এই সময়ই বেতন পাচ্ছেন না মিল্লি আল আমিন কলেজের বেশ কয়েকজন অতিথি অধ্যাপক। দারোয়ান, সাফাই কর্মী-সহ বেশ কয়েকজন কর্মীও এখন বেতনহীন।অর্থসংস্থানের খাতিরে আজ তাদের মোবাইল, ঘড়ি ও আংটির মত জিনিস বিক্রি করতে হচ্ছে। এই খবর পেয়েছে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা অধ্যাপক বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “লকডাউনের কারণে আমার সহকর্মীরা তাঁদের শেষ সম্বলটুকুও বেচে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এই খবরে আমি মর্মাহত।এর জন্য কলেজের পরিচালন সমিতি দায়ী।”
মিল্লি আল আমিন কলেজের এই সমস্যা নতুন নয়। কলেজটিকে সংখ্যালঘু তকমা দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে অনেকদিন ধরেই কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঝামেলা চলছে রাজ্য সরকারের। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা বৈশাখীকে নিয়েও রয়েছে সমস্যা। তিনি পরিচালন সমিতির একাংশের কাছে রীতিমত ‘অস্পৃশ্য’। তা নিয়ে দুই তরফেই জল গড়িয়েছে বহু দূর। বিকাশ ভবনে সালিশি সভা পর্যন্ত বসানো হয়েছে। নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকেও এ বিষয়ে রিপোর্টও দিয়ে এসেছেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তবু কোনো লাভ হয়নি। এসবের মাঝেই এসে হাজির করোনা সংক্রমণ, যার জেরে চলছে লকডাউন।
অন্যদিকে, এই পবিত্র রমজান মাসে বেশ কয়েকজন অতিথি অধ্যাপক সহ চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীরা বেতন পাচ্ছেন না। সংসারে পয়সার অভাবে তাদের জীবন দুঃসহ হয়ে উঠেছে । তাও কোনও রকমে সংসার চালাতে তাই বাড়ির জিনিসপত্র বেচেই ওদের সংসার চলছে।
ইসলামিক ইতিহাস, উর্দু ও প্রাণিবিদ্যার মহিলা অতিথি অধ্যাপকরা বেশ কয়েক মাস ধরে বেতনহীন। আংশিক সময়ের অধ্যাপক ও কর্মীদেরও বেতন নেই। কিন্তু কলেজে কেন এই অচলাবস্থা? কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা জানিয়েছেন, “আমি প্রত্যেক ইদে সবার হাতে ব্যক্তিগতভাবে কিছু তুলে দিই। কিন্তু এবার যে কী হবে কিছুই বুঝতে পারছি না। হরেকৃষ্ণ কোঙার রোড কন্টেনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষিত হয়েছে, তাই সেখানে যেতেও পারছি না। সরকার সবাইকে টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও তা আর মানছে কই কর্তৃপক্ষ? অন্যদিকে খবর পাচ্ছি কলেজ খুলে উন্নয়নের নামে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।”
কলেজের পরিচালন সমিতির মেয়াদ বহু পূর্বেই সমাপ্ত। কলেজের অচলাবস্থা নিয়ে এখন কথা বলার মতো কেউ নেই। স্থানীয়দের নিয়ে তৈরি হয়েছে মিল্লি আল আমিন কলেজ বাঁচাও কমিটি। কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মহম্মদ হোসেন রিজভী জানিয়েছেন, “২০১২ সাল থেকে মিল্লি আল আমিন কলেজে এই সমস্যা চলছে। ক্রমশ সেখানে ছাত্রী সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এই অবস্থা চললতে থাকলে একসময় কলেজটি বন্ধ হয়ে যাবে।”






