ভোট মানেই লড়াই, মাঠে যেমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে, তেমনই অনেক সময় আইনি জটিলতার সঙ্গেও। এবারের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে ঠিক তেমনই এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন প্রাক্তন আন্তর্জাতিক অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণ। রাজনীতিতে নতুন পথচলা শুরু করলেও, সেই যাত্রা যে এত দ্রুত বাধার মুখে পড়বে, তা হয়তো আন্দাজ করতে পারেননি তিনিও। ফলে এখন প্রশ্ন একটাই তিনি আদৌ ভোটে দাঁড়াতে পারবেন তো?
জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ কেন্দ্র থেকে শাসক দলের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই চর্চায় ছিলেন স্বপ্না। মাঠে সাফল্যের পর এবার ভোটের লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগেই সামনে আসে এক বড় জটিলতা। রেলের চাকরি থেকে ইস্তফা দিলেও, সেই ইস্তফাপত্র এখনও গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে তাঁর প্রার্থিতা নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
ঘটনার সূত্রপাত আরও আগে। অভিযোগ, চাকরি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দেওয়ার আগেই তিনি একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেন এবং দলের কর্মসূচিতে অংশ নেন। রেলের নিয়ম অনুযায়ী, কর্মরত অবস্থায় এমন রাজনৈতিক কার্যকলাপ শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়। সেই অভিযোগেই গত ৯ মার্চ তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। এরপর ১৬ মার্চ তিনি ইস্তফা জমা দিলেও, চলতি তদন্তের কারণে তা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সময় নষ্ট না করে আদালতের দ্বারস্থ হন স্বপ্না। কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে তাঁর আবেদনের শুনানি হয়। সেখানে রেলের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, তদন্ত চলাকালীন তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া সম্ভব নয়। তবে একটি শর্তও সামনে রাখা হয়েছে, যদি তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে রেলের কোনও অবসরকালীন সুবিধা দাবি না করেন, তাহলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ West Bengal assembly election 2026 : একসঙ্গে ৩৪০ নাম উধাও! একই বুথে BLO-সহ বিচারাধীন ভোটারদের নাম কাটা, তবে কি আর নিরাপদ নয় ভোটার তালিকা? পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কতটা সুরক্ষিত? প্রশ্ন উঠছে জনমানষে!
আদালত এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে। তবে সেই নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরবর্তী শুনানি ২৭ মার্চ। তার আগেই সব কিছু পরিষ্কার না হলে, তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যাবে। সব মিলিয়ে, মাঠের চ্যাম্পিয়ন এবার আইনি লড়াইয়ের কঠিন পরীক্ষায় আর সেখানেই নির্ধারিত হবে, তিনি শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে নামতে পারবেন কি না।





