দক্ষিণ কলকাতার বিজয়গড়ে শোকের আবহের মধ্যেই হঠাৎ করে তৈরি হল উত্তেজনা। প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বাড়ির সামনে রাজনৈতিক উপস্থিতি ঘিরে স্থানীয়দের ক্ষোভ ফেটে পড়ে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, এলাকায় আসা বিজেপি প্রার্থীকে সরাসরি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন বাসিন্দাদের একাংশ।
ঘটনাটি ঘটে বিজয়গড়ের অনন্যা অ্যাপার্টমেন্টের সামনে। জানা যায়, টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী প্রচারে বেরিয়ে ওই এলাকায় পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের কয়েকজন কর্মী-সমর্থকও। কিন্তু অভিনেতার মৃত্যুর শোক তখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি স্থানীয়রা। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক উপস্থিতি অনেকেরই অপছন্দের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিজেপি কর্মীদের মধ্যে কয়েকজন সেখানে স্লোগান দিতে শুরু করেন। আর তাতেই ক্ষোভ চরমে ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শোকস্তব্ধ পরিবেশে এভাবে রাজনৈতিক প্রচার করা অনুচিত। কেউ কেউ সরাসরি বলেন, “এটা প্রচারের জায়গা নয়।” পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শুরু হয় বচসা। কিছুক্ষণের জন্য গোটা এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে একটি গভীর শোকের প্রেক্ষাপট। রবিবার দিঘায় শুটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। দিনের কাজের ফাঁকে বিকেলে সমুদ্রে নামেন তিনি। সেখানেই ঘটে বিপত্তি জলে তলিয়ে যান অভিনেতা। সহকর্মীরা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, পথে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মমতা-শুভেন্দু কেন্দ্রে বাড়তি সতর্কতা! এক ঝটকায় ১৮৪ পুলিশ আধিকারিক বদল! ভোটের আগে প্রশাসনে কড়া বার্তা, তবে কি নিরপেক্ষতার আড়ালে নতুন সমীকরণ?
এই আকস্মিক মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবার, সহকর্মী এবং অনুরাগীদের মধ্যে। বিজয়গড়ের বাড়ির সামনে ভিড় জমে যায় পরিচিত-অপরিচিত মানুষের। এমন আবেগঘন পরিস্থিতিতেই রাজনৈতিক উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক নতুন করে প্রশ্ন তুলছে শোকের মুহূর্তেও কি রাজনীতি থেকে দূরে থাকা সম্ভব নয়? স্থানীয়দের ক্ষোভ সেই প্রশ্নকেই আরও জোরালো করে তুলেছে।






