নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রশাসনিক তৎপরতা। এবার সেই তৎপরতারই বড় পদক্ষেপ হিসেবে রাজ্যের একাধিক থানায় ওসি বদলের সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে নজর কেড়েছে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুটি হাইভোল্টেজ কেন্দ্র, যেখানে রাজনৈতিক লড়াই ইতিমধ্যেই তুঙ্গে।
নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদল শুরু হয়েছিল। এই প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে বদল নিয়ে আপত্তি জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-কে চিঠিও দেন। তবে কমিশন তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে ধাপে ধাপে বদলির প্রক্রিয়া চালিয়ে যায়।
এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল রাজ্যের দেড়শোর বেশি থানার ওসি বদল। মোট ১৮৪ জন পুলিশ আধিকারিককে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম দুটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ভবানীপুরে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে, আর তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম থেকেও লড়ছেন। ফলে এই দুই কেন্দ্রকে ঘিরে উত্তেজনা স্বাভাবিকভাবেই বেশি।
প্রশাসনিক বদলের অংশ হিসেবে ভবানীপুর থানার নতুন ওসি করা হয়েছে সৌমিত্র বসুকে, যিনি আগে কলকাতা পুলিশের এসটিএফে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে নন্দীগ্রাম থানার দায়িত্ব পেয়েছেন শুভব্রত নাথ, যিনি আগে চন্দননগর থানায় ছিলেন। শুধু থানার ওসি নয়, ডিস্ট্রিক্ট ইন্টেলিজেন্স ব্র্যাঞ্চের ১১ জন আধিকারিককেও বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের ৮৩টি ব্লকের বিডিও এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারদেরও সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
আরও পড়ুনঃ “কী করে যে কী হয়ে গেল, কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না” অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণে মর্মাহত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!
তবে এই বদলির তালিকায় সামান্য বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছিল। আরজি কর কাণ্ডের সময় টালা থানার ওসি থাকা অভিজিৎ মণ্ডলকে প্রথমে মানিকতলা থানায় বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে কমিশন জানায়, ভুলবশত তাঁর নাম তালিকায় উঠে গিয়েছিল। ফলে তিনি আপাতত পর্ণশ্রী থানায় তাঁর বর্তমান দায়িত্বেই বহাল থাকছেন। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশনের এই পদক্ষেপ যে আরও আলোচনার জন্ম দেবে, তা বলাই যায়।





