দিল্লিতে নিঃশব্দে বড়সড় জ*ঙ্গি ছক! শেষ মুহূর্তে গ্রেফতার লস্কর কমান্ডার শাব্বির লোন? ভারত জুড়ে লুকিয়ে ছিল ভয়ং*কর পরিকল্পনার ইঙ্গিত!

দেশের বড় শহরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যতই জোরদার হোক না কেন, অদৃশ্য এক আতঙ্ক যেন বারবার সামনে চলে আসছে। কখনও গোপন বার্তা, কখনও সন্দেহজনক গতিবিধি, সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মনে বাড়ছে উদ্বেগ। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে এই ধরনের খবর আরও বেশি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাও ঠিক তেমনই এক অশনি সংকেত বহন করছে।

গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিল্লিতে একটি বড়সড় জঙ্গি পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে রাখা এক সন্দেহভাজনকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় তদন্ত। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছিল, যার লক্ষ্য ছিল বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করা। এই তথ্য সামনে আসতেই দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে দিল্লি পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।

অবশেষে গ্রেফতার করা হয় লস্কর-ই-তৈয়বা-র সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি কমান্ডার শাব্বির আহমেদ লোনকে। কাশ্মীরের শ্রীনগরের বাসিন্দা এই ব্যক্তি দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। মুজফ্‌ফরাবাদের জঙ্গি শিবিরে তার প্রশিক্ষণ হয়েছিল এবং ‘দাওড়া-এ-আম’ ও ‘দাওড়া-এ-খাস’-এর মতো বিশেষ ট্রেনিংও সে নিয়েছিল। ২০০৭ সালে প্রথমবার অস্ত্রসহ ধরা পড়লেও পরে জামিনে মুক্তি পায়। এমনকি তিহাড় জেলেও থাকাকালীন সে নতুন করে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ।

গোয়েন্দাদের মতে, শাব্বিরের নেতৃত্বে একটি নতুন জঙ্গি মডিউল তৈরি হচ্ছিল, যার বিস্তার ছিল দিল্লি থেকে শুরু করে কলকাতাসহ বিভিন্ন শহরে। অভিযোগ, বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রভাবিত করে তাদের জঙ্গি সংগঠনে যুক্ত করার কাজও করছিল সে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার লাগানো, যুবকদের উস্কানি দেওয়া, এসবের মাধ্যমেই ধীরে ধীরে একটি বড় নেটওয়ার্ক তৈরি হচ্ছিল। এই পুরো পরিকল্পনার পেছনে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর মদত রয়েছে বলেও সন্দেহ করছে তদন্তকারীরা।

আরও পড়ুনঃ রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যু*র পর বিজয়গড়ে উত্তেজনা! বিজেপি পৌঁছতেই কি ক্ষো*ভে ফেটে পড়ল এলাকা? পাপিয়া অধিকারীকে ঘিরে অভিনেতার বাড়ির সামনে বিক্ষো*ভ!

বর্তমানে শাব্বিরকে জেরা করে গোটা চক্রের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চলছে। তার কাছ থেকে নিয়োগের পদ্ধতি, অর্থের উৎস এবং সম্ভাব্য টার্গেট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ। পাশাপাশি দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় আরও কেউ লুকিয়ে আছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, সময়মতো এই গ্রেফতারি বড়সড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করেছে। তবে এর পিছনে লুকিয়ে থাকা বৃহত্তর চক্রান্ত কতটা গভীর, তা জানতে এখনও চলছে জোরদার তদন্ত।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles