ভোটের আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে একের পর এক সভা, মিছিল এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন সমীকরণ। সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হচ্ছে নানা প্রশ্ন, কার দিকে যাবে ভোট, কার বক্তব্য কতটা প্রভাব ফেলবে। এই আবহেই শনিবার মালদহে একাধিক জনসভা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল।
কয়েক দিন আগেই মালদহে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন বহু মানুষ। সেই ঘটনাকে ঘিরেই এবার সভামঞ্চ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া শোনা গেল মমতা ব্যানার্জির গলায়। নাম না করে নিশানা করে তিনি অভিযোগ তোলেন, পরিকল্পিতভাবে অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, নির্দোষ মানুষদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, অথচ প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
সভা থেকে কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং সরকারের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন তিনি। ইডি, সিবিআই, এনআইএ, বিএসএফ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের হাতে বলে অভিযোগ তুলে প্রশ্ন তোলেন, সীমান্ত থেকে টাকা কোথায় যাচ্ছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ভোটের আগে বাইরে থেকে লোক এনে বুথ দখল ও গোলমাল করার চেষ্টা চলছে। বিরোধীদের বিরুদ্ধে “ধর্মের নামে রাজনীতি” করার অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাস নিয়েও রাজনীতি করা হচ্ছে।
এই সভা থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশেও বিশেষ বার্তা দেন তিনি। অভিযোগ করেন, ভোটের সময় তাঁদের রাজ্যে ফিরতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, ট্রেনের টিকিট দেওয়া হচ্ছে না, বাস আটকে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আহ্বান জানান, যেভাবেই হোক নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আবেদন জানিয়ে নাম ফেরাতে হবে এবং এই বিষয়ে দল পাশে থাকবে। কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও কটাক্ষ করে বলেন, মানুষের বিপদের সময় পাশে না থেকে ভোটের সময় রাজনীতি করছে তারা।
সভায় সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য উঠে আসে ইভিএম প্রসঙ্গে। তিনি দাবি করেন, ইভিএম কেন্দ্রীয় সরকার তৈরি করে, ফলে যদি যন্ত্রে কোনও গড়বড় থাকে, তাহলে ভোটারদের উচিত নতুন মেশিনের দাবি তোলা। পাশাপাশি ভোটের সময় সতর্ক থাকার বার্তা দিয়ে বলেন, বাইরে থেকে কেউ গোলমাল করতে এলে নজর রাখতে হবে। এমনকি ভোট গণনার সময় লোডশেডিং হলে রাত জেগে পাহারা দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। সব মিলিয়ে মালদহের মঞ্চ থেকে স্পষ্ট বার্তা আগামী ভোটে লড়াই হবে তীব্র, এবং সেই লড়াইয়ে সাধারণ মানুষকেই সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিতে হবে।





