শান্তি আলোচনার মঞ্চেই কূটনৈতিক বিস্ফো*রণ! যুদ্ধ থামাতে গিয়ে ইজরায়েলকে ‘ক্যানসার’ বললেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী, পাল্টা তোপে তেলেবেগুনে জ্বলছে ইজরায়েল, তবে কি মধ্যস্থতার আড়ালে অন্য কোনও কূটনৈ*তিক খেলাই চালাচ্ছে পাকিস্তান?

আমেরিকা-ইরান শান্তি বৈঠকের আগেই বিতর্কের আগু*ন! লেবানন ইস্যুতে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র আ*ক্রমণ খোয়াজা আসিফের, কড়া জবাবে উত্ত*প্ত দুই দেশের সম্পর্ক, তাহলে কি শান্তির বদলে নতুন সংঘা*তের দিকেই এগোচ্ছে পরিস্থিতি?

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখন, কোন পরিস্থিতি হঠাৎ করে উত্তপ্ত হয়ে উঠবে, তা আগাম বলা প্রায় অসম্ভব। যেখানে যুদ্ধ থামানোর জন্য দেশগুলি একসঙ্গে বসার কথা, ঠিক সেখানেই কখনও কখনও নতুন করে সংঘাতের সূচনা হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাও যেন সেই কথাই মনে করিয়ে দিল। শান্তি আলোচনার প্রস্তুতির মাঝেই এমন এক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই নয়, গোটা কূটনৈতিক পরিস্থিতিকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

আমেরিকা ও ইরানের সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা ঘিরে পাকিস্তানে তৈরি হয়েছিল বিশেষ প্রস্তুতি। ইসলামাবাদে দুই দিনের জন্য কার্যত লকডাউন ঘোষণা করা হয়, বন্ধ রাখা হয় স্কুল-কলেজ। আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছিল পাকিস্তান। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেই পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করে। ধীরে ধীরে সামনে আসে এমন কিছু মন্তব্য, যা কূটনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করে।

এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ (Khawaja Asif)। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ, ইজরায়েল লেবাননে গণহত্যা চালাচ্ছে এবং এর আগে গাজা ও ইরানেও একইভাবে নিরীহ মানুষের উপর হামলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তিনি ইজরায়েলকে ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ বলেও উল্লেখ করেন। আরও একধাপ এগিয়ে দেশটিকে ‘ক্যানসার’-এর সঙ্গে তুলনা করে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন, যা মুহূর্তের মধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন তোলে।

এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ইজরায়েল। গিডিয়ন সা-আর সহ সে দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট জানায়, এ ধরনের মন্তব্য একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। ইজরায়েলের তরফে বলা হয়, কোনও দেশের ধ্বংস কামনা করা বা তাকে অপমানজনক ভাষায় আক্রমণ করা কূটনৈতিক সম্পর্কের পরিপন্থী। বিশেষ করে যে দেশ নিজেকে শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরছে, তাদের কাছ থেকে এমন মন্তব্য আরও বেশি উদ্বেগজনক বলেই মনে করছে তারা।

আরও পড়ুনঃ হাজার কোটির ‘ডিল’ থেকে সংখ্যালঘু মন্তব্য সব অভিযোগের মাঝেই হুমায়ুন কবীরার হাত ছাড়ল AIMIM! ভোটের মুখে একা লড়ার সিদ্ধান্ত, এই বিতর্ক কি শুধুই একটি ভিডিয়োর ফল, নাকি এর নেপথ্যে চলছে আরও বড় রাজনৈতিক খেলা?

সব মিলিয়ে, শান্তি প্রতিষ্ঠার মঞ্চেই নতুন করে সংঘাতের সুর শোনা যাচ্ছে। পাকিস্তান একদিকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে চাইছে, অন্যদিকে তারই বিদেশমন্ত্রীর মন্তব্যে তৈরি হচ্ছে নতুন বিতর্ক। এতে প্রশ্ন উঠছে, এই পরিস্থিতিতে আদৌ কি কার্যকর শান্তি আলোচনা সম্ভব? নাকি কূটনৈতিক মঞ্চ এখন আরও বড় সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে গোটা বিশ্ব রাজনীতিতে?

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর