দিনে নেতা খু’ন, রাতে গণপ্রহা’র! বাংলাদেশে বেড়ে চলা সহিংসতা নিয়ে বড় প্রশ্ন! ইউনুস আমলকে কাঠগড়ায় তুললেন তারেকের উপদেষ্টা?

বাংলাদেশে মব সন্ত্রাসের ঘটনাগুলি যেন সময়ের সঙ্গে মুছে যায়নি, বরং সুযোগ পেলেই নতুন করে সামনে আসছে। রাজনীতির মঞ্চ থেকে সাধারণ মানুষের আলোচনায়, এই ইস্যু এখন আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অতীতের কিছু নৃশংস ঘটনার স্মৃতি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। ঠিক কী ঘটেছিল তখন, আর এখন কেন সেই প্রসঙ্গ ফের সামনে?

সম্প্রতি তারিক রহমান (Tarique Rahman)-এর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে সরব হওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান অভিযোগ করেন, সেই সময় মব সন্ত্রাসকে কার্যত প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, এর ফলে সমাজে এক বিপজ্জনক মানসিকতা তৈরি হয়েছে যেখানে সাধারণ মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে উৎসাহ পাচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকায়। ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদিকে দিনের বেলায় খুন করা হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাতেই ঘটে আরও ভয়ঙ্কর ঘটনা। জনতার সামনে পিটিয়ে খুন করা হয় দীপু দাস নামে এক ব্যক্তিকে, পরে তাঁর দেহে আগুন লাগানো হয়। এই ঘটনাগুলি ঘিরেই মব সন্ত্রাসের ভয়াবহ চিত্র সামনে আসে, যা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়।

এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মো. মাসুম সম্প্রতি হাইকোর্ট থেকে এক বছরের অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন। আদালতের নির্দেশে ময়মনসিংহে জামিননামা গ্রহণ করে তাঁর মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ নিহতের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট মহল। তাঁদের প্রশ্ন এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন সহজে জামিন মিলল?

এদিকে প্রশাসনের তরফে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছেআইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ডা. জাহেদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, অপরাধী যত বড়ই হোক, শাস্তি দেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র রাষ্ট্রের। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে এই আশ্বাস কি সত্যিই পরিস্থিতি বদলাতে পারবে, নাকি মব সন্ত্রাসের ছায়া এখনও রয়ে যাবে বাংলাদেশের সমাজে?

RELATED Articles