বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মাঝেও ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় হচ্ছে। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং প্রযুক্তি সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এমন কিছু মন্তব্য এসেছে, যা দুই দেশের ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দিল্লি-মস্কো সম্পর্ক।
ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ জানিয়েছেন, ভারতের যত পরিমাণ তেলের প্রয়োজন, রাশিয়া তা সরবরাহ করতে প্রস্তুত। তাঁর এই মন্তব্যে দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে এই বার্তা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচনার বিষয় এখন রাশিয়ার অত্যাধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমান Su-57। রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ভারতের বায়ুসেনাকে আরও শক্তিশালী করতে এই যুদ্ধবিমান নিয়ে আলোচনা চলছে। শুধু তাই নয়, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আওতায় যৌথভাবে উৎপাদনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ভারতের সামরিক ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আলিপভ আরও উল্লেখ করেন ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পকে দুই দেশের সফল সহযোগিতার বড় উদাহরণ হিসেবে। তাঁর মতে, অতীতেও বহু প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ভারত-রাশিয়া যৌথভাবে তৈরি করেছে। S-400 মিসাইল সিস্টেম সরবরাহও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ “এতটাই বড়লোক হতে চাই…” হিরণের মনোনয়নপত্র জমার পর, প্রথম বউ অনিন্দিতার কাছ থেকে মিলেছে ‘রক্ষি*তা’ কটাক্ষ! উত্তর দিয়ে, নববর্ষে কী লিখলেন ২য় বউ ঋতিকা?
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত নিজেদের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্বের চাপ থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের অংশীদারিত্ব অব্যাহত রয়েছে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, আফগানিস্তান পরিস্থিতি এবং BRICS-এর মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে। সব মিলিয়ে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।





