কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা আর সম্মানের প্রশ্ন আজকাল বারবার সামনে আসছে। বড় সংস্থাগুলির নাম জড়ালেই সেই আলোচনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনায় উত্তাল দেশ, যেখানে অভিযোগের তালিকা শুধু কর্মক্ষেত্রের চাপেই থেমে নেই তার সঙ্গে জুড়েছে ধর্ম, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা আর নারীদের নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়। মহারাষ্ট্রের নাসিকের একটি অফিস ঘিরে এই বিতর্ক এখন জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রে।
সূত্রের খবর, টিসিএস (Tata Consultancy Services) এর নাসিক অফিসেই কর্মরত এক যুবক সামনে এনে ফেলেছেন একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। তাঁর দাবি, কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মী তাঁকে জোর করে ধর্মীয় আচার পালন করতে বাধ্য করতেন। মাথায় সাদা টুপি পরিয়ে নমাজ পড়তে বলা, এমনকি কলমা পড়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কটূক্তি করা হত বলে দাবি। এমন কথাও নাকি শুনতে হয়েছে “বাচ্চা চাইলে স্ত্রীকে পাঠিয়ে দিন।”
যুবকের দাবি, ২০২২ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই এই হেনস্তা শুরু হয়। তাঁর অভিযোগে উঠে এসেছে টিম লিডার তসিফ আখতার এবং দানিস শেখের নাম, যাঁরা নাকি নিয়মিত তাঁকে লক্ষ্য করে মানসিক চাপ তৈরি করতেন। শুধু নির্দেশ মানতেই নয়, অন্য সহকর্মীদের কাজও তাঁর উপর চাপিয়ে দেওয়া হত বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতি সহ্য করার পর অবশেষে তিনি মুখ খুলেছেন। ইতিমধ্যেই এই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
এই ঘটনার আরেকটি দিক আরও উদ্বেগজনক। অভিযোগ উঠেছে, একই অফিসে কর্মরত একাধিক মহিলা কর্মীও দীর্ঘদিন ধরে যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছেন। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী কয়েকজন কর্মী অভিযোগ করেছেন, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে তাঁদের উপর নির্যাতন চলেছে। ইতিমধ্যেই ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যাঁদের মধ্যে সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার পদমর্যাদার কর্মীরাও রয়েছেন। আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এক মহিলা কর্মী জানিয়েছেন, তাঁকে মূল অফিস থেকে আলাদা করে একটি ছাদে একা বসিয়ে কাজ করানো হত, এমনকি তাঁর ফোন ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ ধর্মীয় চিহ্নে ‘নিষেধাজ্ঞা’র অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়, পুরনো নথি বলে সাফাই লেন্সকার্টের ভুল স্বীকার করে বড় বার্তা সিইওর!
ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং সংস্থার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং আরও গ্রেপ্তারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। এই ঘটনায় শুধু একটি সংস্থাই নয়, গোটা কর্পোরেট সংস্কৃতির উপরই প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। কর্মীদের দাবি, যদি অভিযোগ সত্যি হয়, তাহলে এমন পরিবেশে কাজ করা কতটা নিরাপদ? আর যদি এতদিন ধরে এই সব চলেই থাকে, তাহলে তা আগে সামনে এল না কেন এই প্রশ্নও এখন ঘুরছে সাধারণ মানুষের মনে।





